সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন প্রকৌশলী হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শিব্বির আহমেদ ওরফে আজমী, সহকারী প্রকৌশলী রাজীব গুহ ও উপসহকারী প্রকৌশলী জিন্নাতুল হক। বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ‘চাকরি হতে বরখাস্তের’ গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানাতে প্রত্যেককে ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন কি না, সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ জুন টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকায় লৌহজং নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতু দেবে যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ৮ মিটার প্রস্থ ও ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্মাণাধীন সেতুটির ঢালাই কাজের পূর্বে ‘সেন্টারিং ও শাটারিং’–এর সময় ঠিকাদার ড্রয়িং ও নকশা অনুসরণ না করে বল্লি ও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রকৌশলীরা শুধু চিঠির মাধ্যমে তাদের নিষেধ করেন। কিন্তু তাঁরা ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করতে কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন। এটিকে দায়িত্বে চরম অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে।

মেয়রকে কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, পৌরসভার প্রকৌশলীদের সঙ্গে ঠিকাদারপক্ষের স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সেতু নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে জেনেও কোনো পদক্ষেপ নেননি মেয়র সিরাজুল ইসলাম। বরং কাজের অগ্রগতির তুলনায় অতিরিক্ত বিল প্রদান করেছেন। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সেতুটি নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘ব্রিকস অ্যান্ড বিল্ডিং লিমিটেড’ ও ‘দ্য নির্মিতি কে (জেভি)’ সেতু নির্মাণে নকশা ও প্রাক্বলন যথাযথ অনুসরণ না করায় ওই দুই প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া প্রসঙ্গে মেয়র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ–সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চিঠির জবাব দেবেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সেতুটি নির্মাণে কাজ পেয়েছিল ‘ব্রিকস অ্যান্ড বিল্ডিং লিমিটেড’ ও ‘দ্য নির্মিতি কে (জেভি)’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান সেতুটির নির্মাণকাজ তদারক করতেন।

দরপত্রের শর্তানুযায়ী সেতুর শাটারিং এএমএস পাইপ ব্যবহারের কথা ছিল, কিন্তু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতারা শাটারিংয়ে গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করেন।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিয়েছিলেন। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি অঙ্গীকারনামা দেয়, সেখানে উল্লেখ করা হয় এমএস পাইপের পরিবর্তে গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করার কারণে ঢালাই চলাকালে কোনো ক্ষতি হলে এর ক্ষতিপূরণ তারা (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) বহন করবে।