বাঘায় পদ্মার চরে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গেছে ডাকাতেরা
রাজশাহীর বাঘার পদ্মা নদীর চরে গুলির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে নৌকায় করে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় অপহৃত ব্যক্তির বাবা বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনার ২০ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা যায়নি।
নিখোঁজ ব্যক্তির নাম স্বপন ব্যাপারী (৪০)। তাঁর বাবার নাম সিদ্দিক ব্যাপারী। বাড়ি বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালি গ্রামে। পুলিশ ঘটনার স্থল থেকে নিখোঁজ স্বপন ব্যাপারীর স্যান্ডেল ও ঘটনাস্থলের রক্তমাখা মাটি জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় সিদ্দিক ব্যাপারী বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাঘা থানায় একটি মামলা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন।
সারা দিন পদ্মার চরে অভিযান চালিয়েও স্বপনের সন্ধান পায়নি। বাঘা থানার পরিদর্শক তদন্ত প্রভাত মণ্ডল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় থেকে প্রায় ২০ ঘণ্টা হতে চলল। নিখোঁজ স্বপন ব্যাপারীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার গভীর রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ট্রলারযোগে পদ্মার চর এলাকায় আসে। তারা কালিদাসখালী চরে ঢুকলে স্বপন ব্যাপারী টর্চলাইটের আলো ফেললে ক্ষিপ্ত হয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁকে লক্ষ করে গুলি ছোড়েন। আহত স্বপন ব্যাপারীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশী জিয়াউল হক এগিয়ে এলে তাঁকে লক্ষ করেও ডাকাতেরা গুলি ছোড়ে। জিয়াউল অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও হাতে সামান্য আঘাত পেয়েছেন। ডাকাতেরা গুলিবিদ্ধ স্বপন ব্যাপারীকে টেনেহিঁচড়ে নৌকায় তোলে। মাটিতে তাঁর রক্তের দাগ লেগেছিল।
সিদ্দিক ব্যাপারী বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে দুটি ট্রলারে করে ১৫-১৬ জন ডাকাত আসে। তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে আমার ছেলে স্বপনকে গুলি করে তুলে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মার বালুরঘাট কেন্দ্র করে এ এলাকায় প্রায়ই ডাকাত দলের তৎপরতা দেখা যায়। তবে সর্বশেষ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।