ব্রাজিল সমর্থকদের টেক্কা দিতে ৩ হাজার ৩০০ ফুট পতাকা বানালেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে চলে নানা প্রতিযোগিতা। পরস্পর পাল্লা দিয়ে চলে বড় পতাকা তৈরির কাজ। কে কার চেয়ে বড় পতাকা তৈরি করতে পারেন, তা নিয়ে চলে তুমুল লড়াই। ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে বড় পতাকা নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে এমন প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে নরসিংদীর পলাশে। ব্রাজিল সমর্থকদের ১ হাজার ৩০০ ফুট পতাকাকে টেক্কা দিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বানালেন ৩ হাজার ৩০০ ফুট পতাকা।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে পলাশের ঘোড়াশালে ৩ হাজার ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশালাকার পতাকা নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রিয় দলের সমর্থনে শোভাযাত্রা করেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। এর আগে ৬ জুন বিকেলে ঘোড়াশালে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা জানাতে ১ হাজার ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা নিয়ে হলুদ জার্সিতে ব্রাজিলের সমর্থকেরা শোভাযাত্রা বের করেন।
দুটি শোভাযাত্রাই ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পলাশ বাজার থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরনে নিজ দলের জার্সি, হাতে প্রিয় দলের পতাকা। বাদ্যযন্ত্র আর স্লোগানে মুখরিত ছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা শেষে সমর্থকেরা বিএডিসি বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ব্যান্ডের তালে তালে নেচেগেয়ে উল্লাস করেন।
দুই দলের সমর্থকেরা জানান, তাঁরা প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতেই বিশালাকার এসব পতাকা তৈরি করে শোভাযাত্রা করেছেন। হাজার হাজার সমর্থক নিজ দলের জার্সি পরে ওই বিশাল পতাকা মিছিলে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফুটবল উদ্যাপনর অংশ হিসেবেই তাঁরা ঢাকঢোল পিটিয়ে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করেছেন।
সৈকত নামের আর্জেন্টিনার একজন সমর্থক বলেন, ‘গত বছর আর্জেন্টিনার সমর্থনে আমরা ২ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা নিয়ে মিছিল করেছি, এবারও আমরা ৩ হাজার ৩০০ ফুট পতাকা নিয়ে মিছিল করলাম প্রায় ৫ হাজার সমর্থক। মেসির যেহেতু এটি শেষ বিশ্বকাপ, আমরা চাই, এবারও বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাই জিতুক।’
হানিফ নামের আরেক সমর্থক বলেন, ‘আমাদের এবার কোনো চাপ নাই, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমরা বিশ্বকাপে আসছি। আশা করি, এবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ করব। মেসির হাতেই বিশ্বকাপ দেখতে চাই।’
স্থানীয় লোকজন জানান, ব্রাজিল সমর্থকদের ১ হাজার ৩০০ ফুট পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রাকে টেক্কা দিতেই আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা ৩ হাজার ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রা করলেন। প্রত্যেকেই প্রিয় দলের প্রতি শুভকামনা-সমর্থন জানাতে এসব আয়োজন করেছেন। সম্প্রীতির মধ্যে থেকে তাঁদের এসব আয়োজনকে এলাকাবাসীও উৎসাহ দিচ্ছে।