স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকে মাহমুদা সিঙ্গাইর উপজেলার বাস্তা এলাকায় নানা আবুল বাশার খানের বাড়িতে থাকতেন। প্রায় চার বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। বাস্তা এলাকায় আবু হানিফ নামের এক ব্যক্তির একতলা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানেই থাকতেন তিনি। সেখান থেকেই ঢাকায় কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন।

স্থানীয় লোকজনের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার রাতে পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদা বাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় ঘুমিয়ে পড়েন। আজ দুপুর ১২টায়ও ঘুম থেকে না ওঠায় বাসার অন্য লোকজন তাঁকে ডাকাডাকি করেন। তবে তাঁর কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে বেলা একটার দিকে পুলিশ ওই বাসার কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর থেকে মাহমুদার লাশ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয় ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হামিদ বলেন, তাঁর ভাই আবু হানিফের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওই নারী পুলিশ কনস্টেবল থাকতেন। দুই মাস আগে তিনি বাসাটি ভাড়া নেন। এখান থেকেই ঢাকায় অফিস করতেন। তাঁর স্বামী মাঝেমধ্যে আসতেন। সবশেষ গত শুক্রবার দুপুরে স্বামী শাজাহান ওই বাসায় আসেন। এ সময় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। স্ত্রীকে মারধরও করেন শাজাহান।

সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম মোল্ল্যা বলেন, নারী কনস্টেবলের লাশ উদ্ধারের সময় পাশে দানাদারজাতীয় কীটনাশক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।