ত্বকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলে আবারও সময় চাইলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারও সময় চেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে র্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র মজুমদার লিখিতভাবে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করেন। একই দিনে মামলার আট আসামি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। সেদিন শুনানি শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। আজ সেই প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন না দিয়ে নতুন করে সময়ের আবেদন করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে তদন্তকারী কর্মকর্তা লিখিতভাবে সময়ের আবেদন করেছেন। ধার্য তারিখে মামলার আট আসামি আদালতে হাজিরা দেন। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
হাজিরা দেওয়া আসামিরা হলেন আজমেরী ওসমানের সহযোগী ইউসুফ হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, তায়েফ উদ্দিন, মামুন মিয়া, কাজল হালদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাফায়েত হোসেন ও রিফাত বিন ওসমান। পলাতক ছিলেন সুলতান শওকত ও সালেহ রহমান।
আদালতে বাদীপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ, আওলাদ হোসেন, জিয়াউল ইসলাম, শাহীন মাহমুদ প্রমুখ। আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, আজ আদালতের ১০১ কার্যদিবসেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। দীর্ঘদিনেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ধার্য তারিখে ৮ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দুই আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুলতান শওকত ভ্রমর, ইউসুফ হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। এর মধ্যে সুলতান শওকত ও ইউসুফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই বছরের ১২ নভেম্বর সুলতান শওকত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছেন। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র আজও আদালতে পেশ করা হয়নি।
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখ ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে দীর্ঘ সাড়ে ১১ বছর পর ত্বকী হত্যা মামলার বিচারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপরও তদন্তকারী সংস্থা র্যাব এখনো আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি।