আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কায়দায় পুলিশ তার নগ্নরূপে ফিরে গেছে, অভিযোগ হাসনাতের
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে, তার একটা টেস্ট ম্যাচ গতকাল ঢাকায় দেখা গেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কায়দায় পুলিশ তার নগ্নরূপে ফিরে গেছে।
আজ শনিবার দুপুরে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে ১১–দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন। কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ থাকলে কী পরিণতি হয়, সেটি গত জুলাইয়ে দেখেছেন। আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকুন। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের চাকরি করতে আসছেন। জনতার ট্যাক্সের টাকায় আপনার বেতন হয়। কোনো রাজনৈতিক দলের টাকায় আপনার বেতন হয় না। আজকে যদি আপনি কোনো রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে যান, আগামীকাল আপনার সন্তানের চাকরির জন্য তাদেরই ঘুষ দিতে হবে।’ তিনি বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপির পুলিশ না হয়ে বাংলাদেশের পুলিশ হয়ে ওঠার আহ্বান জানান।
পথসভার উপস্থিতির উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা সকাল সাড়ে সাতটায় কেন্দ্র যাবেন। কেন্দ্রে অবস্থান করবেন এবং ফলাফল ঘোষণার পর কেন্দ্র ছাড়বেন। একটি রাজনৈতিক দল কেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র করছে। ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির ভাইদের বলব, আপনারা সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান করবেন।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির অনেক নেতা–কর্মী চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায়। নেতা চাঁদাবাজি করতে অর্ডার দেন, বাস্তবায়ন করতে হয় কর্মীদের। তৃণমূলের অনেক কর্মী আছেন, তাঁরা এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। গত ১৭ বছর বিএনপির যেসব নেতা–কর্মী নির্যাতিত হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছেন, গুম হয়েছেন; হাইব্রিড বিএনপি এসে মূল বিএনপিদের কর্নার করে দিয়েছে। সেই নেতা–কর্মীরা ধানের শীষের বিপরীতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা-শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করছেন। তাঁরা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন, কিন্তু ভোটটা দেবেন দাঁড়িপাল্লা–শাপলা কলিতে।
এনসিপির যশোর জেলার প্রধান সমন্বয়ক মুহা. নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন যশোর-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল কাদের। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের সংগঠক শাকিব শাহরিয়ারসহ জামায়াত ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।