সমাবেশের আগেই বিএনপির মঞ্চ ভাঙচুর, হামলায় আহত ৩৫

নোয়াখালীর চাটখিলে বিএনপির সমাবেশ মঞ্চ ভাঙচুর করার পর। আজ শুক্রবার দুপুরে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে চাটখিল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে পুলিশের সামনেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ হামলা করেছেন বলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন। এ সময় হামলাকারীরা মঞ্চের আশপাশে থাকা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও মারধর করেন।

এতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হানিফ, সদস্যসচিব শাহজাহান রানাসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে হামলায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২০ জন।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চাটখিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির। আজ বিকেলে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কেউ বিএনপির সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করেননি। তিনি শুনেছেন, স্থানীয় বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করেছে এক পক্ষ। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

কর্মসূচি পালন উপলক্ষে বেলা দুইটায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরের দিকে আসা শুরু করলে জায়গায় জায়গায় তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করে সমাবেশে আসতে দেননি।
শাহজাহান রানা, সদস্যসচিব, চাটখিল উপজেলা বিএনপি

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেল ও পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা তিনটায় চাটখিল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল উপজেলা বিএনপি। বেলা দুইটার দিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একদল কর্মী সমাবেশস্থলে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে মঞ্চ ভাঙচুর করেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের মারধর করেন।

লাঠিসোঁঠা নিয়ে বিএনপির সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করতে যাচ্ছে হামলাকারীরা। আজ শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালীর চাটখিল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহজাহান রানা অভিযোগ করেন, কর্মসূচি পালন উপলক্ষে বেলা দুইটায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরের দিকে আসা শুরু করলে জায়গায় জায়গায় তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করে সমাবেশে আসতে দেননি।

শাহজাহান রানা বলেন, বেলা দুইটার পর তিনিসহ দলের কিছু নেতা-কর্মী চাটখিল আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে সমাবেশের মঞ্চের কাছে এসে দাঁড়ান। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দলীয় স্লোগান দিতে দিতে মাদ্রাসার মাঠে প্রবেশ করেন। তাঁরা এসেই পুলিশের সামনে সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করেন। কয়েক মিনিট তাণ্ডব চালিয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর আবার এসে মঞ্চের ওপর টাঙানো শামিয়ানা ছিঁড়ে ফেলেন এবং তিনিসহ উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।

শাহজাহান রানা অভিযোগ করেন, হামলা-ভাঙচুর কালে চাটখিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হ‌ুমায়ূন কবিরসহ বেশ কিছু পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে। তিনি জানান, হামলায় তিনি ছাড়াও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা, যুবদল নেতা জামাল হোসেন, মো. মিন্টুসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসার পথে অনেক নেতা-কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন, যাঁদের সঠিক সংখ্যা এখনো তাঁদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। আহত ব্যক্তিরা নিজেদের সুবিধামতো জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চাটখিলের খিলপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির সমাবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে পাহারা বসান আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা মাথায় হেলমেট পরে, হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে চাটখিল উপজেলা সদরের দিকে আসা সাধারণ মানুষকেও হয়রানি করেন। তিনি নিজেও তাঁদের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মাহমুদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, চাটখিলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র নেতা-কর্মীরা পুলিশের সহায়তায় হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে সমাবেশের মঞ্চ ও প্যান্ডেল গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কমপক্ষে ৩৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মাহমুদ হাসান জানান, বেলা তিনটার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ এম এম মাহবুব উদ্দিন ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদকে উপজেলার হালিমা দিঘিরপাড় এলাকায় অবরুদ্ধ করে রাখেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁরা সেখানেই অবস্থান গ্রহণ করেন এবং বিকেলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ দূরে ছিল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। বিএনপির নেতা মাহবুব উদ্দিন হালিমা দিঘিরপাড় এলাকায় সমাবেশ করেছেন। হামলার ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না তিনি জানেন না।