গত বুধবার থেকেই মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মূল ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ করছেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। ফলে ওই দিন থেকেই কার্যত অচল রয়েছে ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম।

জানা গেছে, চারুকলার সমস্যা সমাধান করতে ১১ নভেম্বর ১৪ সদস্যের একটি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে চারুকলার ১১ শিক্ষক ছাড়াও সহকারী প্রক্টর মুহম্মদ ইয়াকুব সদস্য হিসেবে আছেন। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় ওই ১২ শিক্ষক ইনস্টিটিউটে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রণব মিত্র চৌধুরীও রয়েছেন।

সন্ধ্যা ছয়টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তখন ইনস্টিটিউটের ভেতরে প্রশাসনিক ভবনে ছিলেন শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোনো জিনিস নিয়ে ইনস্টিটিউটের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি তোলেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষকেরা চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের কাগজপত্র নেবেন বলে ইনস্টিটিউটের ভেতরে ঢুকতে চান। এ কারণে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন। কিন্তু স্থানান্তরের কাগজপত্র না নিয়ে শিক্ষকেরা তাঁদের ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন।

ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শহীদ বলেন, শিক্ষকদের স্থানান্তরের কাগজপত্র নেওয়ার শর্তে ইনস্টিটিউটের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে শিক্ষকদের কোনো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে দেওয়া হবে না।

জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর মুহম্মদ ইয়াকুব বলেন, আগামীকাল সোমবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তাঁরা এসেছিলেন। কয়েকজন তাঁদের ব্যক্তিগত জরুরি কাগজপত্রও নিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এখন যে ধরনের আচরণ করছেন, তা অসম্মানজনক।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রণব মিত্র চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অপমানজনক। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

১১ দাবিতে ২ নভেম্বর ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। তখন থেকে ক্লাস বর্জন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ৫ নভেম্বর উপাচার্য শিরীণ আখতার বরাবর চিঠি দেন শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে তাঁরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ১০ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের বাদশা মিয়া সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর গত বুধবার সকাল থেকে ইনস্টিটিউটের ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ করে রেখেছেন তাঁরা।