বৃষ্টি শুরু হলে কী করবেন জানতে চাইলে পঞ্চাশোর্ধ্ব একজনের উত্তর, ‘আমাদের জীবনই মিশে গেছে রোদ-ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে। একটু পরই ঘুমাতে যাবে সবাই। সকালে উঠে আবার শুরু হবে জীবনযুদ্ধ। তাই অবসরের এই সময়টুকু নষ্ট করতে চাইছে না কেউ।’

ওই ব্যক্তির কথা শেষ না হতেই লুডু খেলা থামিয়ে স্থানীয় ভুলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা মো. শরিয়ত আলোচনায় অংশ নেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি নছিমন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন জানিয়ে শরিয়ত বলেন, ‘কাজ শেষে সন্ধ্যায় সবাই এসে এখানে জড়ো হই। গল্প, খেলাধুলা বা হাসিঠাট্টা করে সময় কাটাই। খুশিমন নিয়ে বাড়িতে ফিরি। এতে করে আমাদের পরের দিনটাও সুন্দরভাবে শুরু হয়।’

ওই মোড় থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একই সড়কের হাইলজোড়-কলেজগেট মোড়। চারদিকে সবুজ গাছগাছালি। এর মধ্যে পাঁচ-ছয়টি দোকান। রাত সাড়ে আটটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একটি চায়ের দোকানে চলছে দল বেঁধে গল্প, আড্ডা ও টিভি দেখা। পাশেই একটি খোলা জায়গায় কয়েকজন যুবক ক্যারম খেলছিলেন। তাঁদের হইহুল্লোড়ে মুখর চারপাশ।

কথা হয় উপজেলার দিঘধা গ্রামের বাসিন্দা মো. জামান হোসেনের (৩৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখানে গরুর দুধের চা পাওয়া যায়। সময় পেলেই বন্ধুরা মিলে চা খেতে চলে আসি। গল্প-আড্ডায় সময় কাটাই। এতে আমাদের সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’

জামানের ভাষ্য, ১০ থেকে ১২ বছর আগেও এই মোড়ে কোনো দোকানপাট ছিল না। চারদিকে জঙ্গল বা নির্জন সড়ক থাকায় মানুষজন খুব একটা আসত না। কিন্তু এখন জমজমাট অবস্থা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লোকজন কম থাকলেও বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এমন জমজমাট আড্ডা চলে।

এসব আড্ডায় রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা–সমালোচনাও চলে। এই মোড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলার মুচিবাড়ি চৌরাস্তার মোড়। রাত নয়টার দিকে সেখানে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, জনা দশেক ব্যক্তি চা খেতে খেতে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি ও লোডশেডিং নিয়ে আলাপ করছিলেন।

এ সময় কথা হয় মো. জাকির হোসেন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। আয়রোজগার কম। যে হারে জিনিসপত্রের দাম বাড়তাছে, তাতে আমাগোর মতো মানুষের মরণদশা। চা খেতে খেতে আমরা এসব নিয়াই কথা বলতাছিলাম।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন