অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে রাজশাহী নার্সিং কলেজে শাটডাউন, ভবনে তালা

অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে রাজশাহী নার্সিং কলেজে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজের বিভিন্ন ভবনে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকেছবি : প্রথম আলো

অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে রাজশাহী নার্সিং কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে তাঁরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ক্লাস, পরীক্ষা ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে কলেজটির স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ কর্মসূচি চলবে। এর আগে গত শনিবার থেকে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। গতকাল সোমবার আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন না আসায় আজ কঠোর কর্মসূচিতে যান শিক্ষার্থীরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি সাবেক অধ্যক্ষ মোছা. মতিয়ারা খাতুন অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস ধরে কোনো স্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না থাকায় কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ না থাকায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ, ক্লাস রুটিন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন আটকে থাকায় দাপ্তরিক কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। স্টাইপেন্ড ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও বন্ধ রয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ না থাকায় তাঁরা শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এ বিষয়ে এর আগে কলেজ প্রশাসন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি), স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষ না থাকায় আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগের আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, শিক্ষকদের মধ্যে অন্তঃকলহ এবং উচ্চপর্যায়ের একটি পক্ষের গাফিলতির কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়াটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। অবসরে যাওয়ার সময় সাবেক অধ্যক্ষ কাউকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যক্ষ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তৎপরতা চালালেও এখনো পর্যন্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।