মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা
পুরো সড়ক বন্ধ করে নির্মাণ কাজ, চলাচলে ভোগান্তিতে মানুষ
কাজ শুরুর পর সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলেও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
ছোট ড্রেন খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে বড় নালা। খোঁড়া মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে পাশেই সড়কের ওপর। গর্ত আর মাটির স্তূপের কারণে সড়কে আর চলাচলের কোনো জায়গা নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথ ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দারা।
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দেওভোগ বিলেরকানি থেকে শাহ আলম শেখের বাড়ি হয়ে খালপাড় পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ ঘিরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্নয়নকাজের কারণে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না।
এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। দীর্ঘদিন এটি বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তাই একদিকে চলাচলের ব্যবস্থা রেখে অন্যদিকে দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া দরকার। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পৌর কর্তৃপক্ষকে কার্যকরভাবে তদারকি করতে হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বৈখর অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শাহ আলম শেখের বিলেরকানি বাড়ি পর্যন্ত ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এই অংশে ৩৯০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। পাশাপাশি ওই পথে ৪৭৬ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ও এএফডির (এজেন্সি ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট) অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে কাজটি হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে বৈখর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজের জন্য সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি খনন করে রাখা হয়েছে। কোথাও মাটির স্তূপ, কোথাও বড় বড় নালা। পাশেই অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে কিছু মানুষকে ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
দুই শিশুশিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক বিউটি আক্তার। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় নালা। সড়কও উঁচু-নিচু। শুকনা অবস্থায়ও বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া যায় না, বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। বিকল্প পথে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরতে হয়। সামনে বাচ্চাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। বিদ্যালয়ে না এসেও পারা যাচ্ছে না। কত ভোগান্তি আর গর্তে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক ও ড্রেনের কার্যাদেশ অনেক আগে হলেও প্রায় তিন মাস আগে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আর ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ১০ দিন আগে। তাঁদের অভিযোগ, কাজ চলছে কচ্ছপগতিতে। খনন করা অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকছে। আবার খনন করা মাটি সড়কের অন্য অংশে ফেলে রাখায় চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুই দিন কাজ করার পর আবার পাঁচ দিন কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে শহর ও বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। যাঁদের বাড়ি থেকে বের হলে এই পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, তাঁদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এলাকাবাসীর আপত্তি নেই। বরং উন্নয়নকাজ হওয়ায় তাঁরা খুশি। তবে তাঁদের মূল অভিযোগ, কাজ শুরুর পর সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলেও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একই সঙ্গে ধীরগতিতে কাজ চলায় দুর্ভোগের মেয়াদও দীর্ঘ হচ্ছে।
বিকল্প পথে প্রতিদিন চলাচল করতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রতন মৃধা। তিনি বলেন, ‘নির্মাণকাজের কারণে সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখলে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে আমাদের, যাঁদের সব কাজ শহরমুখী।’
সড়ক সরু হওয়ায় মাটি রাখার জায়গা না থাকায় সড়কের ওপরই মাটি রাখা হয়েছে বলে দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। শরীফ এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাইদ টিটু প্রথম আলোকে বলেন, সড়কটি সরু। ড্রেনের জন্য মাটি কেটে কোথাও রাখার জায়গা নেই। তাই মাটি সড়কেই রাখা হয়েছে।
তবে উন্নয়নকাজের কারণে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিকাদারকে মানুষের জন্য চলাচলের ব্যবস্থা করে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সেই সঙ্গে কোনো কাজ নিয়ম মেনে না করা হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’