কাপাসিয়ায় নাশকতার মামলায় মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ
গাজীপুরের কাপাসিয়া মডেল থানায় একটি নাশকতার মামলায় মৃত এক ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলায় ১৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে মো. আমিন উদ্দিন মোল্লাকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি ২ বছর ৯ মাস আগে মারা গেছেন।
মৃত আমিন উদ্দিন মোল্লা উপজেলার গাগুটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামের মৃত আশরাফ আলী মোল্লার ছেলে। এ বিষয়ে আমিন উদ্দিনের জামাতা মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি তাঁর শ্বশুর মারা যান। মারা যাওয়ার ২ বছর ৯ মাস পর তাঁর শ্বশুরকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমিন উদ্দিন মোল্লা নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ৬৫ বছর বয়সে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নাশকতার মামলাটি করেছেন কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক সালাউদ্দিন। এ মামলায় আমিন উদ্দিন ছাড়াও ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার কাপাসিয়া সদরের তরগাঁও মেডিকেল মোড় এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের উশৃঙ্খল নেতা–কর্মীরা অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করার জন্য সংঘবদ্ধ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি ককটেল ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের ফেলে যাওয়া অবিস্ফোরিত চারটি এবং বিস্ফোরিত একটি ককটেলের খোসা উদ্ধার হয়। এ ছাড়া চারটি পেট্রলবোমাও উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে আমিন উদ্দিনের বাবার নাম ও ঠিকানা সঠিক লেখা হলেও বয়স ৪৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওই ব্যক্তির স্বজনেরা জানান, তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জানি, আমিন উদ্দিন মোল্লা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মারা গেছেন। তাঁর বাবার নাম আশরাফ আলী মোল্লা। মৃত আমিন উদ্দিনকে কোনো মামলায় আসামি করা হয়েছে কি না, তা জানা নেই।’
মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর মিয়া বেশি কিছু বলতে রাজি হননি। শুধু বললেন, ১৮ নম্বর আসামি সম্পর্কে তাঁরা যাচাই করে দেখবেন।