গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ আটক প্রকৌশলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ সড়ক বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনকে আটকের ১৮ দিন পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন মামলাটি করেন। তবে বিষয়টি আজ মঙ্গলবার জানাজানি হয়।
মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) ও চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০) এবং গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩)।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৭ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইনস মোড়ে নিয়মিত তল্লাশির সময় একটি প্রাইভেট কার থামায় পুলিশ। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা দুটি ব্যাগ থেকে মোট ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি ব্যাগে ‘সার্কেল’ লেখা সাত লাখ টাকা এবং অন্য ব্যাগে ‘জোন’ লেখা তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়।
তল্লাশির সময় গাড়িতে থাকা পিয়ন মোশারফ হোসেন অসংলগ্ন কথা বললে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গাড়ি ও উদ্ধার করা টাকা জব্দ করে পিয়ন ও চালককে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, উদ্ধার করা টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলামকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল। এরপর পুলিশ গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করে।
গত ১৮ ডিসেম্বর ওই তিনজনকে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারের অনুমতির জন্য ৪ জানুয়ারি আদালতে আবেদন করা হলে আদালত তিনজনকেই মামলায় গ্রেপ্তারের অনুমোদন দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেল ও জোনের অধীন বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিচালনা করে আসছে। শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্র অনুমোদনের জন্য ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেল ও জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। টাকার ব্যাগে ‘সার্কেল’ ও ‘জোন’ লেখা থাকায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
ওই কর্মকর্তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিরা মূলত টাকা বহনকারী ছিলেন।