গমের নাড়া পোড়াতে গিয়ে আগুনে পুড়ল ১০০ বিঘা জমির ফসল
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গমের নাড়া পোড়াতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ১০০ বিঘা জমির ফসল পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হাড়িয়াদহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন কৃষকেরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাড়িয়াদহ গ্রামের কৃষক ওসমান আলী তাঁর জমি থেকে গম কাটার পর নাড়া পরিষ্কারের জন্য আগুন ধরিয়ে দেন। সেই আগুন দ্রুত পাশের খেতগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষকেরা বালতিতে করে পানি এনে চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। মুহূর্তে আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ১০০ বিঘা জমির পাকা গম।
স্থানীয় কৃষক ফজলুল হক ও বাছেদ মিয়া বলেন, ওসমান আলীর দেওয়া আগুন বাতাসের তোড়ে এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে কয়েক শ মানুষ বালু ও পানি নিয়ে ছুটে আসেন। অনেকে কাঁচা গাছের ডালপালা দিয়ে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মজিদ মিয়া বিলাপ করে বলেন, আর দুই দিন পরেই গম কাটার কথা ছিল। সারা বছর এই ফসলের দিকে চেয়ে ছিলেন। এখন ঋণের টাকা দেবেন কীভাবে, আর পরিবারকেই কী খাওয়াবেন?
খবর পাওয়ার পরপরই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে; যাতে তাঁরা দ্রুত সরকারি সহায়তা পান।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) জেসমিন ফেরদৌস বলেন, ফসল কাটার পর জমিতে খড় পোড়ানো কেবল অগ্নিঝুঁকিই বাড়ায় না, মাটির উর্বরতা ও উপকারী অণুজীবও ধ্বংস করে। হাড়িয়াদহ মাঠের এই বিপর্যয় মূলত সচেতনতার অভাবেই হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য দ্রুত অর্থসহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।