চাঁদাবাজি নয়, দূষণ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ভাঙচুর হয়েছে: বিএনপি নেতা

চাঁদা না পেয়ে কারখানা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে কথা বলছেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান। গতকাল বুধবার বিকেলে রূপগঞ্জের দাউদপুর এলাকার একটি পার্কেছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জিআই তার উৎপাদনকারী কারখানা ‘বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজে’ কোনো চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান (হুমায়ুন)। তাঁর দাবি, পরিবেশদূষণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

চাঁদা ‘না দেওয়ায়’ কারখানায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার দাউদপুরের একটি পার্কে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এ দাবি করেন বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান। এ সময় তাঁর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে অবস্থিত শারীরিক প্রতিবন্ধী মনোয়ার হোসেনের (অপু) জিআই তার উৎপাদন কারখানায় হামলা ও কর্মীদের মারধর করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কারখানায় লুটপাট চালিয়ে ট্রাক দিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামিসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

কারখানার মালিক শুরু থেকে অভিযোগ করে আসছেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনসহ অন্যরা সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে দফায় দফায় চাঁদা দাবি করেছেন। অন্তত চার দফায় বিষয়টি মাহফুজুর রহমানকে জানিয়েছেন তিনি। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো চাঁদা দাবি করা লোকদের সঙ্গে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন মাহফুজুর রহমান। এ নিয়ে প্রথম আলোতে ‘নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ: চাঁদা “না দেওয়ায়” কারখানা ভাঙচুর, ট্রাক এনে পণ্য লুট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন

গতকাল প্রতিবাদ সভায় মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জিআই তার উৎপাদনকারী কারখানাটির দূষণের কারণে সেখানকার ফসল, মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষতি হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই কারখানাটি বন্ধের জন্য এলাকাবাসীর দাবি ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের দিন কয়েকজন পরিবেশদূষণের কারণে ফ্যাক্টরি বন্ধ করার বিষয়ে কথা বলতে যায়। এ সময় কথা-কাটাকাটি ও ভাঙচুর হয়।’

মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন। মামলার আসামি তাঁর ভাই মো. কাজল আইনমন্ত্রীর বাসায় ছিলেন। রূপগঞ্জ থানার একজন উপপরিদর্শক মুঠোফোনে তাঁকে কারখানায় ঘটনার ব্যাপারে জানান। তখন তিনি বিষয়টি জানতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। সেখানে তখন রূপগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময় এ ঘটনায় মামলা হলে বেলায়েত আকন ও তাঁর ভাই কাজলকে আসামি করা হয়।

মাহফুজুর রহমান দাবি করেন, তাঁকে ও তাঁর দল বিএনপিকে বিতর্কিত করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। এরই অংশ হিসেবে একটি সাজানো মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ফ্যাক্টরিতে কখনো যাইনি। আমি কারখানা কর্তৃপক্ষকে চিনি না। তারাও আমাকে চেনে না। তারা কখনো আমাকে ফোন করেনি। ফোন করলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতাম। আমরা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে তৎপর রয়েছি।’