রাখি দে বলেন, ‘আমার দিনটা শুরু হয় গাছের যত্ন নিয়ে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রতিদিন রুটিন করে স্বামীসহ ছাদে কিছুটা সময় কাটাই। এই গাছপালার সঙ্গে থেকে অনেক প্রশান্তি আসে। বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছ খুঁজে নিয়ে আসা, গাছের যত্ন নেওয়া এখন নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

কীভাবে ছাদবাগান করার শখ জাগল? জানতে চাইলে রাখি বলেন, ২০১২ সালে বাড়ির ছাদে একটি শিউলি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন। ছাদে রাখা হয়েছে ড্রাম। সেখানে বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার জমা করে কম্পোস্ট সার তৈরি করা হয়।

রাখি দে বলেন, তাঁর বাগান করার শখ পূর্ণতা পেয়েছে স্বামী অভিজিৎ দের সহযোগিতায়। নিয়ম করে তাঁর সঙ্গে গাছের পরিচর্যা করেন অভিজিৎ। ছেলেমেয়েরাও গাছের পরিচর্যা করেন। কোনো ফল খাওয়ার পরে ফলের বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করেন সন্তানেরা। বাজার থেকে আনা আনারসের মাথাগুলো টবে লাগিয়েছিলেন। সেখান থেকে এখন আটটি আনারসের গাছ হয়েছে। ফলও ধরেছে এবার।

২০১৬ সালের পরে ছাদবাগানের প্রতি আরও মনোযোগী হন রাখি। কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারাও খোঁজ রাখেন রাখির ছাদবাগানের। জাতীয় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলা-২০২২ সমাপনী অনুষ্ঠানে রাখি দে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।

সম্প্রতি রাখির মতো দিনাজপুর পৌর শহরে অনেকে ছাদ কৃষিতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। প্রায় সারা বছরই ছাদ কৃষিতে ফুল-ফল, শাকসবজি চাষ করছেন তাঁরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দিনাজপুরে শতাধিক দালানের ছাদে বাগান আছে। তবে বালুয়াডাঙ্গা, বালুবাড়ি, সুইহারি, গোলাপবাগ, গুড়গোলা, ইদগাহ বস্তি এলাকায় এর সংখ্যা বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) খালেদুর রহমান বলেন, ছাদে বাগান করলে একদিকে পরিবেশ রক্ষা হয়, অন্যদিকে পারিবারিক সবজির চাহিদার জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। দিনাজপুরে যাঁরা ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের নিয়ে একটি কর্মশালা করার পরিকল্পনা আছে তাঁদের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন