রাজশাহীতে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

রাজশাহী নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বুধপাড়া নজির মোড়ে অবস্থান নেন আওয়ামী পন্থী কাউন্সিলর আলাউদ্দীনের কর্মী-সমর্থকেরা। শুক্রবার সন্ধ্যায়
ছবি: শফিকুল ইসলাম

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভী বুধপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।

ওই দুই কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন মো. আলাউদ্দীন ও আবদুস সামাদ। আলাউদ্দীন মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ঠেলাগাড়ি। আর সামাদ জামায়াতের বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ঘুড়ি।

আলাউদ্দীন বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। তাঁর বাঁ হাতে বাঁশের আঘাত করা হয়েছে। বাঁ পাশে হাতের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে গেছে। এতে তাঁর তিন সমর্থক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি এই ঘটনায় আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ দেবেন। এ ছাড়া মতিহার থানায় একটি মামলা করবেন।

আবদুস সামাদ বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালোই ছিল। আজকের ঘটনাটি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর সাত-আটজন সমর্থক আহত হয়েছেন। তিনি এই বিষয়ে থানায় ও নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেবেন। ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তাঁর সমর্থকেরা আতঙ্কিত। ভোটের পরিবেশ নিয়েও তিনি এখন শঙ্কিত।  

দুই প্রার্থী, পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার আসরের নামাজের পর দুই প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচারে বের হন। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলাউদ্দীন প্রায় ১০০ মোটরসাইকেল নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাপুর এলাকা থেকে। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বুধপাড়ার রাস্তা দিয়ে এসে মৌলবী বুধপাড়া এলাকায় আসে। ওই এলাকায় আগে থেকেই জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আবদুস সামাদ সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ওই সময় আবদুস সামাদ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাকে সাইড দেন। অর্ধেক মোটরসাইকেল চলেও যায়। এ সময় হঠাৎ দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ইটপাটকেল-ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। কেউ কেউ লাঠিও হাতে নেন। এ সময় ওই এলাকায় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান কাউন্সিলর শহিদুল ইসলামের প্রচার মাইকও ভাঙচুর করা হয়েছে।

আলাউদ্দীনের কর্মী মতিহার থানা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, তাঁরা ওই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেল পার হতেও দিলেন। কিন্তু পেছন থেকে তাঁর (সামাদের) নেতা-কর্মীরা হামলা চালান।
জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী সামাদের কর্মী রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁরা বুধপাড়া এলাকায় প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগ করছিলেন। হঠাৎ মোটরসাইকেল বাহিনী এসে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। তাঁর পিঠে বাঁশ দিয়ে আঘাত ও ইট মেরে জখম করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাতেই এলাকায় আসেন মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিহার বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মধুসূদন রায়, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার একরামুল হক। সাংবাদিকদের মধুসূদন রায় বলেন, দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। এ ঘটনায় দেশীয় কোনো অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে তিনি বলেন, কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।