সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি ঢাকার সাভারের মেসার্স মা মনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম সারোয়ার জাহান সাব-ঠিকাদার। গোলাম সারোয়ারের কাছে তিনি তাঁর সম্পাদিত কাজের ২৭ লাখ টাকা পান। ওই টাকা চাইলে সারোয়ার টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে ২ নভেম্বর কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই আহসান হাবিব তাঁকে থানায় তুলে নিয়ে যান। এসআই তাঁকে কোনো টাকা ‘পাই না’ মর্মে মুচলেকা দিতে বলেন এবং ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ‘ঠিকাদার গোলাম সারোয়ার জাহানের কাছ থেকে নেওয়া মালামাল ফেরত দেব’ মর্মে জোরপূর্বক ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেন। ওসি ও এসআই তাঁকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।

ছেলে–মেয়ে বড় হয়েছে। তারা একা স্কুলে যায়, বাড়ির চারদিকে অপরিচিত কিছু লোকের আনাগোনা বেড়ে গেছে। মেয়ের কোনো ক্ষতি করে দেয় এই ভয়ে গত সোমবার বাসা ছেড়েছি। নিরাপত্তাহীনতায় এখন বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
শিউলী বেগম, আসাদুজ্জামানের স্ত্রী

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদার গোলাম সারোয়ার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আমার কাছে ১ কোটি ১ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে বলে কাগজ তৈরি করেছেন। ওই জাল কাগজের মাধ্যমে তিনি ২৭ লাখ পাওনা পরিশোধ এড়াতে চাইছেন। টাকা চাওয়ায় উল্টো কোটি টাকার মালামাল ফেরতের নাটক সাজিয়ে আমাকে পুলিশি হয়রানি শুরু করছেন।’

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ঠিকাদার গোলাম সারোয়ারের মদদে পুলিশ ও বহিরাগত লোকজন তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় তিন দিন আগে আত্মগোপনে চলে যান। ন্যায্য পাওনা পেতে, হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং জীবনের নিরাপত্তা চাইতে তিনি সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের সময় আসাদুজ্জামানের স্ত্রী শিউলী বেগম ও তাঁদের ছেলে–মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আসাদুজ্জামানের স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, ‘ছেলে–মেয়ে বড় হয়েছে। তারা একা স্কুলে যায়, বাড়ির চারদিকে অপরিচিত কিছু লোকের আনাগোনা বেড়ে গেছে। মেয়ের কোনো ক্ষতি করে দেয় এই ভয়ে গত সোমবার বাসা ছেড়েছি। নিরাপত্তাহীনতায় এখন বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এতে ছেলে–মেয়েদের পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে। গতকাল আমার ভগ্নিপতি সাজুর বাসায় পুলিশ গিয়েছে। আমার ও আমার স্বামীর নামে ওয়ারেন্ট হয়েছে উল্লেখ করে একজন এসআই আমাদের দেখা হলেই গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। সন্তান নিয়ে খুব ভয়ে আছি।’

জানতে চাইলে গোলাম সারোয়ার জাহান প্রথম আলোকে জানান, আসাদুজ্জামান লিটন তাঁর কাছ থেকে ২০১৯ সালে ১০ মাস মেয়াদি কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুতের একটি কাজ নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে তাঁকে বললে তিনি এক কোটি এক লাখ টাকার অতিরিক্ত মালামাল তুলে বিক্রি করেন। এ জন্য তিনি কুড়িগ্রাম থানায় ১৫ নভেম্বর একটি বিশ্বাস ভঙ্গের মামলা করেছেন।

গোলাম সারোয়ার জাহান আরও বলেন, ‘মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। আমি আমার টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। তাঁকে কোনো হুমকি দিইনি।’

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাঁকে খুঁজছে। আসাদুজ্জামানকে থানায় এনে কোনো ধরনের হুমকি বা অজ্ঞাতনামা মামলায় ফাঁসানোর কোনো কথা হয়নি।

কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের আদেশ ছাড়া পুলিশ কাউকে রিমান্ডে নেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। যদি কোনো পুলিশ সদস্য কাউকে হুমকি দেয়, সেটা বেআইনি। তা ছাড়া পুলিশ কাউকে থানায় এনে অনৈতিকভাবে কাউকে দিয়ে কোনো দলিলে সই করানোর ক্ষমতা রাখেন না। ভুক্তভোগী ঠিকাদার অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।