নিহত আবু সাইদ সেন্টু টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। হৃদয় বানুর বাবার বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রাজাপুর গ্রামে। দুজনই সৌদি আরবপ্রবাসী। সৌদি আরবেই দুজনের পরিচয় থেকে বিয়ে। আবু সাইদ তাঁর প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে এ বিয়ে করেন। হৃদয় বানুও আগে একবার বিয়ে করেছিলেন। সেখানে তাঁর তালাক হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, দুই বছর আগে সৌদি আরবে থাকাকালে আবু সাইদ হৃদয় বানুকে বিয়ে করেন। বিয়ের চার মাসের মধ্যে হৃদয় বানু অন্তঃসত্ত্বা হন। এর সাত মাস পর হৃদয় বানু দেশে চলে আসেন। দেশে এসে গাজীপুরের টঙ্গীতে আবু সাইদের বড় ভাই খোরশেদের ভাড়া বাসায় ওঠেন। এক মাস পর আবু সাইদও দেশে চলে আসেন। টঙ্গীতেই হৃদয় বানু কন্যাসন্তান জন্ম দেন। গত দুই মাস আগে তাঁরা টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা ধোপাপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নেন।

র‌্যাব জানায়, আবু সাইদ ঘুমিয়ে পড়লে হৃদয় বানু তাঁর পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান।

তবে আবু সাইদ সদর উপজেলার তারটিয়ায় গ্রামের বাড়িতে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বেশির ভাগ সময় থাকতেন। হৃদয় বানুর অভিযোগ, আবু সাইদ ১০-১২ দিন পরপর শহরের বিশ্বাস বেতকা ধোপাপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় আসতেন। এ সময়কালে তাঁকে ভরণপোষণও দিতেন না। ঠিকমতো যোগাযোগ করতেন না আবু সাইদ। এতে স্বামীর প্রতি রাগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয় হৃদয় বানুর।

মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, গত ২৭ জুলাই রাত ৯টায় আবু সাইদ তাঁর স্ত্রী হৃদয় বানুর বাসায় গিয়ে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা জানান। বিমানের টিকিট কেনার জন্য হৃদয় বানুর কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। রাতেই হৃদয় বানু তাঁর বাবার বাড়ি থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আনিয়ে আবু সাইদকে দেন। টাকা পেয়ে আবু সাইদ গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে চাইলে তাঁকে বাধা দেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাত দুইটার দিকে দুজন ঘুমাতে যান। আবু সাইদ ঘুমিয়ে পড়লে হৃদয় বানু তাঁর পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সকালে তাঁদের শিশুকন্যার কান্নার শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন বাসায় ঢুকে আবু সাইদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। ২৯ জুলাই আবু সাইদের প্রথম স্ত্রী নাহিদা খানম বাদী হয়ে হৃদয় বানুকে একমাত্র আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, হবিগঞ্জে বাবার বাড়ি থেকে গতকাল সোমবার রাতে হৃদয় বানুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাঁকে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন