পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী মিঠুর দ্বন্দ্ব ছিল। সম্প্রতি মিঠু তাঁর মায়ের শোবার ঘরের জানালায় উঁকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন নাসির উদ্দিন ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গ্রামে সালিস বসে। সালিসে মিঠু ও তাঁর লোকজন নাসির উদ্দিনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাত ৯টার দিকে আক্কেলপুর থানায় গিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে বাবা-ছেলে বাড়ি ফেরার পথে গোপীনাথপুর টেকনিক্যাল কলেজ এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন পথ রোধ করে তাঁদের ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মিঠুকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তাঁকে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়। আর আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, পুরুষ ওয়ার্ডের বারান্দায় আটক মিঠু হোসেনের পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা চলছে। তাঁর মাথায় ব্যান্ডেজ আছে। মিঠু হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা চলছিল। রোববার সন্ধ্যায় গ্রামে বৈঠক বসেছিল। সেখানে সামান্য মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নাসির উদ্দিন আমাদের বিরুদ্ধে রাতেই থানায় অভিযোগ করেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে পাশের গ্রামে ওয়াজ মাহফিলে যাচ্ছিলাম। তখন তাঁরা আমাদের মারধর করে। বাবা-ছেলেকে আমরা কেউ ছুরিকাঘাত করিনি।’
নাসির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারে লোকজনও হাসপাতালে গেছেন। সে জন্য তাঁদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

আক্কেলপুর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, নাসির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। বাড়িতে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন বাবা-ছেলেক ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। গুরুতর জখম হওয়া বাবা-ছেলেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।