খুলনায় ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পড়ে শিশু নিখোঁজ

খুলনার দাকোপে পানখালী ফেরিঘাট এলাকায় নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তোলা
ছবি: প্রথম আলো

খুলনার দাকোপে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে সাত বছরের একটি শিশু নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঝপঝপিয়া নদীর পানখালী ফেরিঘাটে (বরণপাড়া) এ দুর্ঘটনা ঘটে। আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাড়ে ১৯ ঘণ্টায়ও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শিশুটির নাম ঋদ্ধি। তার বাবা রতন রায় মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টে মেরিন ফিশারিজ অফিসার হিসেবে বটিয়াঘাটা উপজেলায় কর্মরত। ঋদ্ধি তাঁর একমাত্র সন্তান। তাদের বাড়ি দিনাজপুরে।

সোমবার রাতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়নি। আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে উদ্ধারকাজ চলছে।

ঘটনাস্থল থেকে রতন রায়ের সহকর্মী বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আমীর আলী প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার সকালে বটিয়াঘাটা থেকে একটি ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হন রতন রায়ের স্ত্রী ও আট-নয়জন স্বজন। ঘোরাঘুরি শেষে বিকেল ৪টার দিকে সেখান থেকে তাঁরা রওনা হন। দাকোপের বাজুয়া এলাকায় আসার পর বৃষ্টি শুরু হয়। সেখানে ঘণ্টাখানেক বিরতি নিয়ে আবারও ট্রলারটি বটিয়াঘাটার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। তবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি তখনো পড়তে থাকায় তাঁরা পানখালী ফেরিঘাটে নেমে স্থলপথে বটিয়াঘাটা আসার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মোতাবেক পানখালী ফেরিঘাটে তাঁরা নামেন। ট্রলার থেকে প্রথমে একজন নেমে ওপরে ইজিবাইক ভাড়া করতে যান। এরই মধ্যে শিশু ঋদ্ধিও পন্টুনে নেমে পড়ে। ওই ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে দুই পাশে দুটো অচল ফেরি বাঁধা থাকে। অচল ফেরির সঙ্গে পন্টুনের সংযোগের জায়গায় একটু ফাঁকা জায়গা আছে। ট্রলার থেকে নেমে পন্টুনে দৌড় দেওয়ায় সেই ফাঁকা জায়গা দিয়ে সে নদীতে পড়ে যায়।

দাকোপ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার প্রথম আলোকে বলেন, পানখালী ফেরিঘাটে দুটি পরিত্যক্ত ফেরি পন্টুনের সঙ্গে আছে। ঝড়-বাতাসের কারণে পন্টুনের সঙ্গে ওই ফেরির একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেখান দিয়ে শিশুটি পড়ে যায়। সোমবার রাতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়নি। আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে উদ্ধারকাজ চলছে। নদীতে প্রচুর স্রোত এবং নদীর তলদেশে নরম মাটি না থাকায় দাঁড়ানো কষ্টকর। তারপরও চেষ্টা অব্যাহত আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার না হবে, উদ্ধারকাজ চলবে।