‘২৮ তারিখ (ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ছয়টায় কেন্দ্র থেকে মোবাইল করল আমাকে। মোবাইল করি বলল যে “খান সাহেব, আপনাকে তো কোরবানি দেওয়া হলো।” আমি বললাম, এই কোরবানি কি ইব্রাহিম (আ.)-এর ব্যাটা ইসমাইল (আ.)-এর? তখন বললেন যে “হ্যাঁ, এর চেয়েও বড়।” তা আমি বললাম, এর ব্যাখ্যাটা দিলে ভালো হইত। তখন বললেন যে “আসলে ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করেছেন। এ জন্য মানুষ কোরবানি হয় নাই, হইছে দুম্বা। আর আপনার কোরবানি বলতে পীরগাছা-কাউনিয়ার লাখ লাখ নারী-পুরুষের কোরবানি। এ জন্যই এই কোরবানিটা বড় কোরবানি।” তা আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ।’
গত বৃহস্পতিবার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় একটি মতবিনিময় সভায় রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান এ বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
আজম খান রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ায় আসনটি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ জন্য আজম খান মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়ে বৃহস্পতিবার ওই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন। সভায় আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
যোগাযোগ করলে এ টি এম আজম খান আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘বক্তব্যটি উদাহরণস্বরূপ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টা হলো, আমাদের জনগণ যেটা প্রত্যাশা করেছিল, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে এই কথাটা চলে আসছে। অরিজিনালি এটা উদাহরণস্বরূপ যে নেতার আনুগত্য, আল্লাহর আনুগত্য, রাসুলের আনুগত্য। আল্লাহর আনুগত্য করতে গিয়ে আমরা মতের কোরবানি দিই, এটাই। এখানে মূল কথা হচ্ছে, জনগণের মতের কোরবানি, তাঁরা যেন এনসিপির প্রতি মহব্বত করে।’
তবে আজম খানের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা। পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ টি এম আজম খানের বক্তব্যের ভিডিওটি আমি দেখেছি ও শুনেছি। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির চেয়ে বড় কোরবানি, ওনাকে করল ওনার দল, এটা একটা গুনাহের কাজ। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য কত বড় একটা প্রতারণা করার কাজ। এর আগেও আমরা দেখেছি, ওনাদের মহিলা যাঁরা আছেন, তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ক (গণসংযোগ) করতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লায় বেহেশত পাওয়া যাবে আর দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে না, এ রকম অনেক অপপ্রচার করেছেন।’
রংপুর-৪ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী প্রগতি বর্মন বলেন, ‘ভোট, রাজনীতি আলাদা জিনিস। ধর্ম আলাদা জিনিস। যেভাবে বলছেন উনি (আজম খান), ওনার জায়গা থেকে হয়তো বলছেন। আমরা মনে করি, প্রত্যেক ব্যক্তির ধর্মবিশ্বাস প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে থাকবে। ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি যেন কোনোভাবে না মেশে। যখন একটার সঙ্গে আরেকটা মেশাব, তখন এটার নানা ব্যাখ্যা সবাই করবে।’