জীবনসংগ্রামের স্মৃতিচারণা করে শফি কামাল বলেন, ‘জীবনে বাবা থেকেও নেই। তাঁর আলাদা সংসার রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে লেখাপড়া বা ভরণপোষণের কোনো সহায়তা পাইনি। মা সামলেছেন সব। আর মায়ের মতো ভূমিকা পালন করেছেন আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (শংকরবাটী পোল্লাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) শিক্ষকেরা। বিশেষ করে হেড ম্যাডাম মনোয়ারা খাতুন। তিনি আমার জীবনে বটবৃক্ষের ছায়ার মতো। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নানা সহায়তা তো পেয়েছিই, প্রথম আলো ট্রাস্টের সঙ্গেও সংযোগ ঘটিয়ে দিয়েছেন তিনি। না হলে এ পর্যন্ত আসতে পারতাম কি না, সন্দেহ আছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন শফি কামাল। এসব সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের অবদানই বেশি বলে মনে করেন তিনি। শফি কামাল বলেন, ‘নানা পর্যায়ের শিক্ষকেরা আমাকে বিনা পয়সায় পড়িয়েছেন। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়াই আমার প্রথম পছন্দ। এ পেশাকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করি।’

শফি কামালের এ সাফল্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কথা হয় শংকরবাটী পোল্লাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল। শফি কামালই শুধু নয়, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মারুফ, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক বদরুল ইসলাম ও কলেজশিক্ষক নুরুল ইসলামের কাছে পাঠিয়েছি। তাঁরা সানন্দে বিনা পয়সায় পড়িয়েছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সহায়তার জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টকেও ধন্যবাদ।’

শফি কামালের প্রতি প্রত্যাশাটা বেশি ছিল জানিয়ে এই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘ওর ফলাফল নিয়ে শিক্ষকেরা সবাই চিন্তিত ছিলেন। শফি কামালের এ সাফল্যে সবাই অনেক খুশি। ও শুধু পড়ালেখায় নয়, সব দিক দিয়েই খুব ভালো ছেলে। কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও পারদর্শী। কলেজে দুই বছরই বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে প্রথম হয়েছে। ও একদিন অনেক বড় হবে, বড় মনের মানুষ হবে—এই আমাদের বিশ্বাস।’

ছোটবেলা থেকেই শফি কামাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা নূর মহল বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কাগজ কেটে বাড়ি বানাত। উড়োজাহাজ দেখলেই দৌড়ে ঘর থেকে বের হতো। বলত, ‘‘বড় হয়ে আমি ইঞ্জিনিয়ার হব।’’ ওর ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় জীবনে যত দুঃখ-কষ্ট ছিল, সব ভুলে গেছি।’

নূর মহল বেগম আরও বলেন, ‘শত অভাব-অনটনেও মানুষের কাছে কিছু চাইতে পারিনি। এরপরও মনোয়ারা ম্যাডাম অনেক কিছু করছেন। তাঁর মাধ্যমেই প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকায় গিয়েছি ছেলেকে নিয়ে। মন ভরে গেছে অদম্য মেধাবীদের দেখে, তাঁদের কথা শুনে। মন থেকে দোয়া করি প্রথম আলো ট্রাস্টের জন্য।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন