নূর চেহেরের ছেলে মিজানুর রহমান শুনানিতে বলেন, ১৯৮০ সালে নূর চেহের বেগমের শেষ সম্বল ৩৮ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিজের বৈধ জমি হওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের ভুলে ক্ষতিপূরণের টাকা পান অন্যরা। এর পর থেকে নিজের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে দিনের পর দিন তাঁরা মা–ছেলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে ঘুরছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

default-image

শুনানিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপব্যবস্থাপক (ভূমি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের টাকা জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা দিয়ে থাকে। আমরা তাদের সব বুঝিয়ে দিয়েছি। তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা ভুয়া কাগজ দেখিয়ে অন্যরা আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে; যা আদালতে বিচারাধীন।’
জিল্লুর রহমান আরও বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমাদের কিছু করার ছিল না। আইনগতভাবেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও মানবিক দিক বিবেচনা করে নূর চেহের বেগমের এক সন্তানকে বন্দরে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

শুনানিতে উপস্থিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর নূর চেহের আমার কাছে একাধিকবার এসেছিলেন। অর্থ আত্মসাৎকারী যে ছয়জন রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন। যেহেতু মামলাটি বিচারাধীন, আমাদের কিছু করার নেই। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য হিসেবে ৫ লাখ টাকা তাঁকে দিতে পারি।’
শুনানিতে উপস্থিত প্রধান অতিথি দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘একজনের ক্ষতিপূরণের টাকা অন্য ব্যক্তিরা কীভাবে তুলে নিলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

শুনানি শেষে ফিরে যাওয়ার সময় নূর চেহের বেগম বলেন, ৮২ সালে তাঁর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা ২৭ লাখ টাকা। এখন জায়গার দাম বেড়েছে। সেই হিসাবে এখন কয়েক কোটি টাকা হবে ক্ষতিপূরণ। জেলা প্রশাসন টাকা তুলে নেওয়া ছয়জনের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন, তা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়; তিনি যাতে টাকা পান। আসামিরা শাস্তির আওতায় এসেছেন—মৃত্যুর আগে তিনি তা দেখে যেতে চান।

default-image

সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া গণশুনানি শেষ হয় বেলা সাড়ে তিনটায়। এতে চট্টগ্রাম বন্দর, ওয়াসা, কাস্টমস, রেল, বিদ্যুৎ, পাসপোর্ট, ভূমি অফিস, ভূমি অধিগ্রহণ শাখাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৭টি অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন, দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) এ কে এম সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার কৃষ পদ রায়, দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক মাহমুদ হাসান ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি চট্টগ্রামের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন