আজ বেলা ১১টার দিকে শরীয়তপুর পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাস এলেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। কার আগে কে উঠবেন, তা নিয়ে হুড়োহুড়ি। ভিড় ঢেলে বাসে উঠতে বেগ পেতে হয় বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুদের। অনেকে টিকিট কেটেও বাসের জন্য দু-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। আধা ঘণ্টা পরপর একটি বাস এলে তাতে ৫০ থেকে ৮০ জন যাত্রী উঠতে পারেন। অনেক যাত্রী বাসে দাঁড়িয়েও ঢাকার দিকে রওনা দিচ্ছেন।

শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে যাওয়ার সড়কটি কোনো স্থানে ১২ ফুট ও কোনো স্থানে ১৮ ফুট প্রশস্ত। ওই সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে অনেক স্থানে দুটি গাড়ি পাস কেটে যেতে পারে না। তখন যানজট দেখা দেয়। আজ সকাল নয়টা থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো সড়কে আটকে থাকছে। এই বাসগুলো পৌর বাস টার্মিনালে পৌঁছাতে না পারায় যাত্রীদেরও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার লিয়াকত হোসেন পোশাক কারখানায় কাজ করেন। এক আত্মীয়ের বিয়ের জন্য ঈদের ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি নিয়ে গ্রামে ছিলেন। আজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় রওনা হন। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পৌর বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করে কোনো বাসে উঠতে পারেননি।

লিয়াকত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাস পাচ্ছি না। প্রখর রোদের মধ্যে শিশু ও নারীদের নিয়ে বসে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। বুঝতে পারছি না কতক্ষণ পরে বাস পাব।’

ডামুড্যার সিধুলকুরা এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন অসুস্থ এক আত্মীয়কে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর পৌর বাস টার্মিনাল আসেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারেননি। পরে তিনি সিএনজিতে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার দিকে রওনা হন।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতু পার হয়ে বাসে দ্রুত ঢাকায় যেতে পারব, এ কারণে এসেছিলাম। কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার বাসের সংকট। ভিড় ঠেলে উঠতে পারছি না। তাই সিএনজিতে টোল প্লাজার সামনে যাচ্ছি। টোল প্লাজার সামনে থেকে যেকোনো পরিবহনে উঠে ঢাকায় যাব।’

পরিবহন কোম্পানি শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চেয়ারম্যান ও শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, আজ জাজিরায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ওই যানজটের কারণে বাসগুলো আটকে গেছে। সড়কে যানজট না থাকলে যাত্রী পরিবহনে কোনো বিড়ম্বনা হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন