রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদককে সাদাপোশাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সাদাপোশাকের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর সহকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় বলে তাঁরা জানান।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ আটক করেছে।
সিসি ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে চার ব্যক্তি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঘিরে ধরেছেন। সড়কের এক পাশে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়ানো ছিল। গাড়িটি চালু ছিল এবং নির্দেশক বাতি জ্বলছিল। কথা বলার এক পর্যায়ে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে গাড়িটি স্টেডিয়ামের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সৈকত রঞ্জন চৌধুরী জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কাজ আছে বলে সেখানে চলে যান। পরে আসবেন বলে জানান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তিনি না আসায় তাঁরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যান। সেখানে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর মোটরসাইকেল পড়ে থাকলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সাদাপোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে তুলে নিয়ে গেছেন।
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সাদাপোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে গেছেন বলে তাঁরা শুনেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁরা রাঙামাটির পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আটক করেছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলেও গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত তাঁকে জানানো হয়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, এমন কাউকে আটকের তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর স্ত্রী তুষি বড়ুয়া বলেন, ‘আমি হার্টের রোগী। গতকাল আমরা হাসপাতাল থেকে ফিরেছি। এখনো আমি অসুস্থ। এখানে আমার ভাইবোন, স্বজন কেউ নেই। চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় আছি।’