সম্প্রতি সরেজমিনে রাস্তাটি দেখে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। রাস্তাটি নাচোলের অংশে দুই কিলোমিটার ও নিয়ামতপুরের অংশে এক কিলোমিটার কাঁচা। রাস্তাটির এক প্রান্তে পীরপুর, আরেক প্রান্তে আসর গ্রাম, আর মাঝখানের গ্রামটির নাম বীরগ্রাম। নাচোল উপজেলার এ গ্রাম সাঁওতাল অধ্যুষিত। প্রান্তিক সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবনে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি, এই একটি রাস্তাই তার বড় কারণ বলে জানালেন এলাকাবাসী।

■ সবচেয়ে দুর্ভোগ জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে।

■ গ্রামের ছেলেমেয়েরাও অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে।

নিয়ামতপুরের পারইল ইউপির সদস্য মেহেদি হাসান, আসর গ্রামের খাইরুল ইসলাম (৬০), বাবু আহমেদ (৩৮), বুলবুল আহমেদ (৩৫), নাচোলের পীরপুর গ্রামের এনামুল হক (৩৫) ও আমচাষি আমিনুল ইসলাম জানান, এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে বর্ষায় ধান, আম, পেয়ারা, ৩০-৩৫টি পুকুরের মাছসহ অন্যান্য ফসল পরিবহনে মণপ্রতি অন্তত ৩০ টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হয় চাষিদের। শুকনায় ইজিবাইক, রিকশা, ভ্যান চললেও বর্ষায় কোনো যানবাহন এ রাস্তায় চলাচল করে না। ভ্যানচালকদের অনেকটা হাতে–পায়ে ধরে পণ্য আনা-নেওয়া করতে হয়। তবে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুঃস্বপ্নের মতো সবার কাছে।

বীরগ্রামের কলেজছাত্রী নয়নী মুরমুর বাবা সোম মুরমু মারা গেছেন ছয় মাস আগে। তাঁকেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। নয়নী এ কথা জানিয়ে বলে, ‘আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েরাও অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে। বর্ষাকালে পরীক্ষার দিন পড়লে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় সময়মতো পৌঁছাতে পারবে কি না। দুর্ভোগেও পড়তে হয়।’

আসর গ্রামের খাইরুল ইসলাম (৬০) বলেন, সম্প্রতি বীরগ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ গেছে ছয় সন্তানের জননী সাঁওতাল নারী অঞ্জলি মার্ডির (৪০)। আগের রাতের বৃষ্টির কারণে কাদাপানিতে সয়লাব ছিল রাস্তাটি। রাতের বেলা বুকের ব্যথায় আক্রান্ত অঞ্জলিকে আর হাসপাতালে নেওয়া যায়নি।

অঞ্জলির ছয় সন্তানের মধ্যে তিনটিই শিশুসন্তান। এখন তাদের কে দেখবে বলে কেঁদে কেঁদে আহাজারি করতে দেখা যায় অঞ্জলির বড় বোন সঞ্জলি মার্ডিকে। সাঁওতাল গ্রামটির লাইলী সরেন জানান, তিন মাস আগে তিনি নিজে অসুস্থ হয়েছিলেন। চালকের হাত-পা ধরে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে ইজিবাইকে করে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘বাঁইচা থাকতি বুঝিন আর পাকা রাস্তা দেখি যাইতে পারব লয়।’

পারইল ইউপির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুজিব ওরফে গ্যাদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা পাকা করার জন্য তদবির করতে টাকা লাগে। আমি শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আমি টাকা খরচ করতে রাজি নই। শুনেছি, রাস্তাটি এলজিইডির তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু কাজ তো হয় না।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নিয়ামতপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। রাস্তাটি সম্পর্কে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’ নাচোল উপজেলা প্রকৌশলী শাহিনুল ইসলাম বলেন, পীরপুরের এক কিলোমিটার রাস্তা তালিকাভুক্ত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তহবিল পাওয়া গেলে পাকা হবে।