উপমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার পূর্ণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

আসাদুল হাবিব

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৮৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু। ভোটে জেতার চার দিন পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুল হাবিব। ২০০১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার–দলীয় জোট সরকারের আমলে পর্যায়ক্রমে যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আসাদুল হাবিব দুলু সামাজিক আন্দোলন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ ও ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়ক। তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার মানুষের অধিকার ও নদী রক্ষার দাবিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি তিস্তা পাড়ের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা দাবি করেন।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল বাশার সুমন (সুমন বাশার) বলেন, তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক মানুষ হিসেবে আসাদুল হাবিব দুলু জানেন, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুরের কোন স্থানে কী উন্নয়ন করলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

ব্যক্তিজীবন, শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবন

আসাদুল হাবিবের জন্ম ১৯৬০ সালের ৪ জুলাই। বাবা আবুল কাশেম মিয়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নভেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গুলিতে বড়বাড়িতে শহীদ হন। মাতা প্রয়াত হাবিবা খাতুন। সহধর্মিণী লায়লা হাবিব এবং দুই পুত্রসন্তান নিয়ে তাঁর পরিবার।

শিক্ষাজীবনে তিনি রংপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি ও অর্থনীতিতে স্নাতক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৬ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ। পরে ১৯৮৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি পদে আছেন। বর্তমানে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই: নদী ও মানুষের অধিকার’-এ তিস্তা নদী ও অঞ্চলের মানুষের অধিকার নিয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।