নেত্রকোনায় ৯ বছরের শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামে ৯ বছরের শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ শনিবার রাতে শিশুটির বাবা অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বারহাট্টা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এর আগে বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে শিশুটির ঝুলন্ত বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা অটোরিকশাচালক।
শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে শিশুটির মা তাকে খাবার খেতে দিয়ে বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ঘরে এসে দেখেন, তাঁর মেয়ে আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার কিশোর ও দুই তরুণকে আটক করে। তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। আর দুজনের বয়স ২২ বছর। আজ দুপুরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. মাজহারুল আমিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গোপনাঙ্গে কিছুটা ক্ষত দেখা গেছে। শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাইনি। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ছয়জনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ওই ঘরে একটি গেঞ্জি পাওয়া গেছে। সেটিও জব্দ তালিকায় রাখা হয়েছে। আশা করছি, ঘটনার রহস্য দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’