ভালুকায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
ময়মনসিংহের ভালুকায় তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টার জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সোয়া দুইটার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া শ্রমিকেরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা পৌরসভার কাঁঠালী এলাকায় অবস্থিত শেফার্ড জিনস লিমিটেড নামে একটি কারখানা আছে। সেখানে অন্তত দুই হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আজ বেলা ১১টা থেকে শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাঁদের অভিযোগ, এখনো তাঁদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেওয়া হয়নি, ঈদ বোনাস দেওয়া হয়নি এবং চলতি মাসের অর্ধেক বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার বকেয়া বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ দিয়ে কারখানা ঠেসে রাখা হয়। এ নিয়ে গতকাল রাতেও শ্রমিকেরা আন্দোলন করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক রাহিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের কারখানায় প্রায় দুই বছর ধরেই বেতন নিয়ে সমস্যা চলছে। কিছুদিন পরপর আন্দোলন করে বকেয়া বেতন নিতে হয়। নির্বাচনের আগমুহূর্তেও আমাদের বেতন নিয়ে ঝামেলা হয়। গতকাল বকেয়া দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু দুপুরের পর থেকে পুলিশ এনে কারখানা ভরে রাখা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেতনের বিষয়ে জানতে গেলে জিএম (জেনারেল ম্যানজোর) কিছু বলছে না। আমাদের আগে বলত, জিএম–এর কোম্পানিতে ৫০ শতাংশ শেয়ার আছে। কিন্তু এখন বলছে, সেই শেয়ার নেই, আমাদের বেতন দিতে পারবে না। গতকাল রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আন্দোলন চলে। আজ সকাল ১০টার মধ্যে জিএম এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করার কথা। কিন্তু জিএম ফোনই ধরছে না।’ রাহিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদেরও তো স্বামী-সন্তান, সংসার রয়েছে। আমরা কী করব। আমরা বেতন না পেলে কী খাই? আমরা বেতন, বোনাস ও ছুটির টাকা চাই।’
শান্ত আহমেদ নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা প্রায় তিন বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করছি। বেশ কিছুদিন ধরেই কারখানায় সমস্যা হচ্ছে। আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি। কিন্তু ঈদের মধ্যে যদি শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দেওয়া হয়, মানুষ কী করে বাড়ি যাবে? এখানে প্রশাসন ও মালিকপক্ষ কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। গতকাল রাতে আন্দোলন করলে প্রশাসন এসে মালিকপক্ষের লোকজনকে নিয়ে যায়, আর শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরেই ছিল। অনেকে না খেয়ে রোজা রেখেছে। আমরা অন্যায্য কিছু চাইনি, আমাদের ন্যায্য বেতন চাই। আজ সকাল ১০টার মধ্যে আমাদের জানানোর কথা কখন টাকা দেবে, কিন্তু মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে জানতে শেফার্ড জিনস লিমিটেড কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মোখলেছুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কেটে দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে বেলা দুইটার দিকে শিল্প পুলিশ-৫–এর পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘গার্মেন্টসের ঝামেলাগুলো হচ্ছে বেতন ও বোনাস ঠিকমতো হয় না। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বকেয়া থাকার কারণে এই অবস্থা। মালিকপক্ষ কারখানার ভেতরে নেই। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।’