পাহাড় কাটার খবর পেয়ে গতকাল বিকেলে ইউএনও মাসুদ উল আলম ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় দেলোয়ার হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় মাটি কাটার এক্সকাভেটর মেশিনটি। ইউএনও ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। তাঁকে আজ শুক্রবার সকালে তাঁকে ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কাশিরামপুর এবং সাগরতলা মৌজার পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগে ধোপাখলা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল বারেক, কামাল, আবদুল খালেক, ইউনুছ মিয়া ও সাগরতলা গ্রামের ছোটন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বায়েক ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বাদী হয়ে গতকাল ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় মামলা করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ উজ্জীবক মঞ্চের সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য এবং প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করা উচিত। যাঁরা পাহাড় কাটছে ফৌজদারি আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনের আওতায় আনা দরকার।’

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, পাহাড় কাটায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেনকে আজ শুক্রবার সকালে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বায়েক ইউনিয়নে পাহাড় কাটার দায়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সনজীব সরকার প্রথম আলোকে বলেন, কসবায় ছোট বড় ৩৭৫ একর পাহাড় আছে। পাহাড় কাটার দায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আরও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাহাড় কাটার দায়ে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমরা চাই আমাদের প্রাকৃতিক যে ভারসাম্য সেটা যেন বজায় থাকে। পাহাড় কাটার খবর পেলেই আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি, মামলা করেছি। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন