এ ঘটনায় উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রশিদ শেখের মাথার ডান দিক গুলিতে জখম হয়। তবে গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়নি। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।

আবদুর রশিদ বলেন, গতকাল শনিবার বিকেলে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় এক ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে গুলি করলে তাঁর মাথার ডান পাশে গুলি লাগে। তবে গুলি চামড়ার পাশ কাটিয়ে চলে গেছে।
নাজিরপুর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ মামলা করেনি।

সংঘর্ষে আহত আবদুর রশিদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের অনুসারী। গুলিবিদ্ধ ও হামলায় নেতা-কর্মী আহত হওয়ার ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে শ ম রেজাউল করিমের বড় ভাই উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মামলা করার কথা আপাতত ভাবছি না। আগে আহত ব্যক্তিরা সুস্থ হোক।’

হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম আউয়ালের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘শনিবার বিকেলে প্রথম হামলা মন্ত্রীর লোকজন করেছেন। আমাদের জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাস তাঁরা ভাঙচুর করেছেন। তারপরও আমরা কোনো মামলা করব না। যতি তাঁরা (মন্ত্রী পক্ষ) মামলা করেন, তখন আমরাও মামলা করব।’

ওই সম্মেলনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মোশারেফ হোসেন। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউলে করিমের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্ঝন কান্তি বিশ্বাস।

গতকাল শনিবার বিকেলে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে স্থানীয় সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা কলেজের একটি কক্ষে। সেখানে মোশারেফ হোসেন খান এবং এস এম নজরুল ইসলামের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশুতোষ ব্যাপারী, নির্ঝন কান্তি বিশ্বাস, আতিয়ার রহমান চৌধুরী, শাহ আলম ফরাজী, মোস্তাফিজুর রহমান ও বেলায়েত হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়। এঁদের মধ্যে আশুতোষ আউয়ালের অনুসারী। আর বেলায়েত হোসেন ছাড়া বাকি চারজন মন্ত্রী রেজাউল করিমের অনুসারী।

এরপর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রথমে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের বলেন, আপনারা ছয়জন নিজেরা বসে একজন হয়ে আসেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা সবাই এক মত হতে পারেননি। এরপর আফজাল হোসেন উপস্থিত কাউন্সিলরদের কাছে জানতে চান তিনি দুটি নাম প্রস্তাব করবেন কি না? কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে আফজাল হোসেন সভাপতি হিসেবে মোশারেফ হোসেন খান ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক আশুতোষ ব্যাপারীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আউয়ালের অনুসারী। তবে কমিটি ঘোষণার আগেই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ের মাঠে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেকটা হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই দুই পক্ষ মারমুখী হয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আবদুর রশিদ গুরুতর আহত হন। বাকিদের মধ্যে চারজন বর্তমানে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

শ ম রেজাউল করিমের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্ঝন কান্তি বিশ্বাস বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রস্তাবিত নামগুলো নিয়ে ভোট না করে কেন্দ্রীয় নেতারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুজনের নাম ঘোষণা করে চলে যান।

তবে সদ্য নির্বাচিত সভাপতি মোশারেফ হোসেন খান বলেন, কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কমিটি ঘোষণা করেছেন। দলের গঠনতন্ত্র মেনে সব ইউনিয়ন কমিটি ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করা হয়েছে।

নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনের সভাপতি আবদুল মালেক ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মোশারেফ হোসেন খান।