জামিনে বের হয়ে বানাচ্ছিলেন নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল, সেই ভারতীয় নাগরিক আবার আটক
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মাছ ধরার নিষিদ্ধ নৌযান ‘আর্টিসানাল ট্রলিং’ জাল তৈরির মূল হোতা ভারতীয় নাগরিকসহ সাত কারিগরকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার চর পাথরঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে আজ বিকেলে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, উপজেলার ওই এলাকার একটি কারখানায় নিষিদ্ধ ‘আর্টিসানাল ট্রলিং’ সরঞ্জাম ও ‘ট্রলিং’ জাল তৈরি হচ্ছিল। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড অভিযান পরিচালনা করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি ট্রলিং জাল ও জাল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভারতীয় নাগরিক পণ্ডিত বিশ্বাসসহ (৩৯) সাতজনকে আটক করা হয়। বাকিরা বাংলাদেশের নাগরিক।
পণ্ডিত বিশ্বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং তৈরির কাজ করেন বলে কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন। এর আগে গত বছরের ১২ আগস্ট কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে জামিনে বের হয়ে তিনি আবার এ কাজে জড়িয়েছেন।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে কোস্টগার্ড।
উল্লেখ্য, কাঠের তৈরি ছোট ট্রলারে অবৈধভাবে ইঞ্জিন যুক্ত করে তৈরি করা হয় ছোট ফাঁসের ‘বেহুন্দি জাল’। সাগরে নিষিদ্ধ এসব নৌযানকে বলা হয় আর্টিসানাল ট্রলিং বোট। এসব ট্রলার গভীর ও অগভীর সাগরে রেণু-পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছ ও মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য নষ্ট করে। এ কারণে এটি দেশে নিষিদ্ধ।