কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কলেজশিক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত

কলেজশিক্ষার্থী মো. মুরসালিনছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে ভারতের ভেতরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন। ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিহত একজন কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কসবার গোপীনাথপুর আলহাজ শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি হলেন একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন।

নিহত মুরসালিনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গতকাল রাতে স্থানীয় কয়েকজন এসে মুরসালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে সীমান্তে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর সীমান্তের ভারতীয় অংশে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুরসালিন মারা যান। পরে তাঁর মরদেহ ভারতের ভেতরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশে ভারতের প্রায় ২০০ গজ ভেতরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় যান। পরে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাঁদের বাধা দেয়। সে সময় বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে দুটি ছররা গুলি ছোড়ে। এতে বাংলাদেশি মো. মুরসালিন (২০) ও অপর ব্যক্তি নবীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ বিজিবিকে নিশ্চিত করেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুজনের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে কাজ চলছে। বিএসএফকে প্রতিবাদলিপি পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুজনের লাশ বিএসএফের কাছে আছে। লাশ দেশে নিয়ে আসার বিষয়ে বিজিবির সদস্যরা কাজ করছেন।