পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মা–বাবা জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন বছর ধরে ঢাকায় আছেন। সাকিব দাদা-দাদির তত্ত্বাবধানে নিজ গ্রামের বড়িয়া কওমি মাদ্রাসার আবাসিক হোস্টেলে থেকে হেফজ বিভাগে পড়ে। গত শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষক রাশেদুল ইসলামের কাছে সে পড়া শোনাচ্ছিল থাকে। কিন্তু পড়ায় ভুল করার সাকিবকে বাঁশের ছড়ি দিয়ে পেটানো শুরু করেন শিক্ষক রাশেদুল। এ সময় সাকিব চিৎকার করলে তার গলা ধরে মাটিতে আছাড় মারেন ওই শিক্ষক। আতঙ্কিত হয়ে সাকিব দৌড়ে তার দাদির বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতবরদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন ওই শিক্ষক। কিন্তু সাকিবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রোববার রাতে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক রাশেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরে সাকিব ভালোভাবে লেখাপড়া করছে না। তাই পরিবারের অনুমতি নিয়েই মারপিট করেছি। মারধরের পরিমাণ একটু বেশি হওয়ায় গ্রামের মাতবরদের মাধ্যমে সাকিবের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তাঁরা ক্ষমা না করে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।’

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজনীন নাহার বলেন, সাকিবের শরীরে কয়েক স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাকিবের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাকিবকে মারধরের সঠিক তথ্য প্রমাণসহ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন