রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ইসমত আরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই মামলায় দুজন আসামি ছিলেন। ১ নম্বর আসামি মারা গেছেন। অপর আসামি শ্যাম দাসের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৭ ধারার অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁকে দোষী সাব্যস্তক্রমে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দুই আসামি মিলে ওই তরুণীর ছবি সংগ্রহ করে তা সম্পাদনা করে অশ্লীল ছবি তৈরি করেন। পরে সেসব ছবি দেখিয়ে তাঁর বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

মামলার রায়ে বলা হয়েছে, এই মামলার আলামত রাষ্ট্র বরাবর বাজেয়াপ্ত করা হলো। ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা ভুক্তভোগী পাবেন। মামলার আসামির হাজতবাস মূলে কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাটোরে লালবাজার এলাকার এক তরুণী ২০১৪ সালের ২৪ মে সদর থানায় মামলাটি করেছিলেন। ওই তরুণী মাস্টার্স পাস করে ওই সময়ে ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার্থী ছিলেন। বাবলু চন্দ্র (৪৫) নামের একজন মাদকসেবী তাঁকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিতেন এবং রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানি করতেন। একপর্যায়ে বাবলু চন্দ্র তাঁর সহযোগী শ্যাম দাসকেও ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁরা দুজন মিলে ওই তরুণীর ছবি সংগ্রহ করে তা সম্পাদনা করে অশ্লীল ছবি তৈরি করেন। পরে সেসব ছবি দেখিয়ে তাঁর বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই টাকা না দিলে তাঁরা ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী চাঁদার টাকা না দিলে দুজন মিলে ওই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বিয়ে ভেঙে যায়। এলাকায় মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী মামলা করেন।

আইনজীবী ইসমত আরা বলেন, এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি বিচারের জন্য রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে আসার পর সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরই মধ্যে জামিনে মুক্ত অবস্থায় ১ নম্বর আসামি বাবলু মৃত্যুবরণ করেন। পরে শ্যাম দাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে আজ আদালতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন