হামলার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ-সমর্থিত ছাত্রলীগ কর্মীরা বড়বাড়ি রোডে অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের আসবাব নিয়ে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় পাকুন্দিয়া সদর বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

গত বছরের ২২ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকে তাঁর সঙ্গে সংসদ সদস্যের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর জেরে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ২২ জুন আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানসহ বেশ কয়েকবার দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকালে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক-সমর্থিত ছাত্রলীগের সদস্যরা পৌর এলাকার বড়বাড়ি রোডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে সকাল ১০টার দিকে বের হয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে কিছুটা আগানোর পরই পাটমহল মোড়ে সংসদ সদস্য-সমর্থিত ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা ও ধাওয়া করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ছিল। এ সময় বল্লমের আঘাতে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আমিনসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

পাকুন্দিয়া ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস পালন করার উদ্দেশ্যে তাঁরা পাকুন্দিয়া পৌর সদর বাজারে এলে দুই পক্ষের মধ্যে হালকা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের নেতৃত্বে জেলহত্যা দিবস পালন করেছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘সকালে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বেলা ১১টায় রয়্যাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছি।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন হোসাইন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

এক যুগ পর গত ৫ অক্টোবর পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে নাজমুল আলমকে সভাপতি ও তোফায়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রদল, জামাত-শিবির থেকে আসা কর্মীদের অনুপ্রবেশসহ দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে কমিটিতে বিবাহিত, বয়সোত্তীর্ণ ও মাদকাসক্ত নেতাদের রাখার অভিযোগে বিরোধী একটি পক্ষ মানববন্ধন, ঝাড়ু মিছিলসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। কমিটি প্রত্যাখ্যান করে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে ভাইরাল হয়েছেন মো. আরমিন নামের এক ছাত্রলীগ নেতা।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্যের অনুসারী সাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেল হত্যা দিবস পালনের অজুহাতে উপজেলার বিতর্কিত ছাত্রলীগের সভাপতিসহ অন্যরা পাকুন্দিয়া পৌর সদরে মিছিল করার চেষ্টা করে। এ সময় পদবঞ্চিতরা সবাই মিলে তাদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেওয়াসহ তাদের কার্যালয়ের তালা ভেঙে আমাদের পক্ষ থেকে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।’