সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত
নিষেধ না শুনেই তরুণেরা নেমেছিলেন সাগরে, ঢেউয়ের ধাক্কায় একজন নিখোঁজ
স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালীর ঝুঁকিপূর্ণ সৈকতে গোসলে নেমে পড়েন পাঁচ তরুণ পর্যটক। হঠাৎ বড় একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় তলিয়ে যান সবাই। স্থানীয় লোকজন চারজনকে উদ্ধার করলেও মোহাম্মদ রিফাত হোসেন (১৮) নামের এক তরুণকে উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আজ শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রিফাত হোসেনের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এলাকায়।
উদ্ধারকারীদের একজন মো. সুমন বলেন, ‘আমরা সাগর পাড়ে থাকি। সাগরের অবস্থা বুঝি। তাই পর্যটকদের পানিতে নামতে নিষেধ করেছিলাম। তা সত্ত্বেও তারা নেমেছে। আমাদের কথা শোনেনি। হঠাৎ একটি ঢেউয়ে পাঁচজনের সবাই তলিয়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমরা কয়েকজন সাগরে ঝাঁপ দিয়ে চারজনকে উদ্ধার করি। একজনকে পাওয়া যায়নি।’
মো. রমজান নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, মৌসুমের এ সময়ে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূল উত্তাল থাকে। যেকোনো মুহূর্তে ঢেউ বিশালাকার ধারণ করতে পারে। তাঁরা পর্যটকদের নিষেধ করেন। পর্যটকেরা তাঁদের কথা না শোনার ফলে দুর্ঘটনার ঘটে। আজ এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এখন রাত নয়টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। এরপর চার ঘণ্টার মতো উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু নিখোঁজ তরুণের সন্ধান পাননি। জোয়ারের পানি বাড়তে থাকায় আপাতত রাত নয়টায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন তাঁরা। আগামীকাল রোববার ভোর থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।