ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর ক্যাম্পাসে পুলিশের অবস্থান। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায়ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ছাত্রলীগের এই পক্ষ দুটি বিজয় ও সিক্সটি নাইন নামে পরিচিত। এর মধ্যে বিজয় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও সিক্সটি নাইন সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। নিজেদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ, ঠিকাদার, কর্মকর্তাদের থেকে চাঁদাবাজি ও সাংবাদিক মারধরের ঘটনার পর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্র।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, বিজয় পক্ষের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কামরুল ইসলাম ২০১৯ সালের দিকে সিক্সটি নাইনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি বিজয় পক্ষে যুক্ত হন। এ নিয়ে সিক্সটি নাইন পক্ষের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কামরুলের বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত রোববার কামরুলকে মারধর করেন সিক্সটি নাইনের কর্মীরা।

পরে বুধবার রাতে সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে সিক্সটি নাইন পক্ষের এক কর্মী রাতের খাবার খেতে এলে কামরুলের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিজয়ের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে আর সিক্সটি নাইনের কর্মীরা শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেন।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

জানতে চাইলে বিজয় পক্ষের নেতা শাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জুনিয়রদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। এখন সিনিয়ররা মিলে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

সিক্সটি নাইন পক্ষের নেতা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুই জুনিয়রের মধ্যে ব্যক্তিগত ঝামেলা নিয়ে হাতাহাতি হয়েছে। এটি রাজনৈতিক কোনো ঝামেলা নয়।

রাত সোয়া ১১টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পুলিশ নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজেমুল মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। দুই পক্ষকেই হলে পাঠানো হয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুচ্ছ ঘটনাকে নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনা নতুন নয়। গত পাঁচ বছরে কথা-কাটাকাটি, কক্ষ দখল, পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অন্তত ১৬২ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন চার শতাধিক নেতা-কর্মী।