পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কুলাউড়ায় যোগদান করেন। শহরের মাগুরা এলাকায় একটি বাসায় তিনি ভাড়া থাকেন। গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা পাঁচ-সাতজন যুবক তাঁকে আটকান। এরপর ওই যুবকেরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে যুবকেরা তাঁর মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এরপর রাত ১০টার দিকে ওই প্রকৌশলী থানায় গিয়ে চার-পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি। ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার আমিনুল ইসলাম মৃধার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে প্রকৌশলীকে অপসারণের দাবি জানান তাঁরা।

গত ২৪ জুলাই উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রকৌশলী আমিনুলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা উপজেলা প্রকৌশলীকে ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ’ মন্তব্য করে বলেন, তাঁকে বক্তব্যের সুযোগ দিলে সব চেয়ারম্যান সভা বয়কট করবেন। পরে সভায় উপস্থিত মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন