ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সি স্যালাইন, সিপ্রোসিন, মেট্রোসহ বিভিন্ন ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগই পেটের ব্যথা ও বমি সমস্যায় বেশি ভুগছেন। কিন্তু পেটের ব্যথা ও বমি বন্ধে হাসপাতালে ওষুধ ইমিস্টেট ও এলজিনের সরবরাহ নেই। এই দুটি ওষুধ রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতে রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

গত শনিবার দুপুরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের শয্যা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ওয়ার্ডের পর্যাপ্ত পাখারও সংকট রয়েছে। পুরুষ ওয়ার্ডে শৌচাগারে যাওয়ার রাস্তার উত্তরাংশে ওপরে কোনো পাখা নেই। ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় কোনো পাখা নেই। প্রচণ্ড গরম সহ্য করে রোগীরা মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের রিকশাচালক রফিক মিয়াকে দেখা যায়, তিনি মেঝেতে শুয়ে আছেন। তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। তাই সিট না পাইলেও ফ্লোরে শুইয়্যাই চিকিৎসা নিতাছি। অনেক গরম। তার ওপর পেট ব্যথা ও বমি। এসব বন্ধ করবার লাইগ্যা যে ওষুধ আছে, ওইগুলো হাসপাতাল থেকে দেয় না।’

ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি হাসপাতালের চতুর্থ তলা থেকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডকে দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তরিত করা হয়। চতুর্থ তলায় পর্যাপ্ত পাখা ও বারান্দাও ঝুলন্ত পাখা ছিল। তখন রোগীরা গরমের সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পেয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় তলায় পাখাসংকট ও বারান্দায় কোনো পাখা নেই। বারান্দার সামনে পশ্চিম দিকে অস্ত্রোপচার ইউনিট। যে কারণে রোগীরা বারান্দায় মেঝেতে থাকতে পারেন না।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স লিপি রানী চৌধুরী বলেন, গত শনিবার ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় প্রায় তিনগুন বেশি রোগী ছিল। ৫৩ জন রোগী ভর্তি ছিল। ওয়ার্ডের ২০টি শয্যা থাকলেও রোগীর সংখ্যা বাড়ায় করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০টি শয্যা আনা হয়েছে। তারপরও রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, স্যানিটেশন ব্যবস্থার ঘাটতি, বিশুদ্ধ পানি পান না করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়া এবং অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এ ছাড়া গ্রামের মানুষের মাঝে সচেতনার যথেষ্ট ঘাটতিও রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন