হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার
নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই কিশোরীর মায়ের বক্তব্যের একটি ভিডিও গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম খোরশেদ আলম। তিনি পুলিশের পরিদর্শক। হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে ছিলেন তিনি। গতকাল রাতে তাঁকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
ওই কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ বিষয়ে তখনই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কিশোরীর মাকে বলতে শোনা যায়, মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর তিনি হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে (সহকারী পুলিশ সুপার) অভিযোগ করেন। এরপর তাঁদের কাছ থেকে লিখিতভাবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্যও নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় দুই বাসিন্দা অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে সই নেন। এরপর থেকে ভয়ে তাঁরা গত চার মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নুরুল আনোয়ারাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্রের এক উপপরিদর্শকের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা হয়েছিল। ওই উপপরিদর্শক তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এসব অভিযোগ সাজিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি। এ ধরনের খারাপ কাজ আমি করিনি।’
জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশারফ হোসেন আজ রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক আগে এ ধরনের অভিযোগ হয়েছিল, সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি সত্যতা পাননি বলে উল্লেখ করেছেন। এখন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে (খোরশেদ আলম) প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’