‘মঞ্জুরুলবিহীন’ নির্বাচনে প্রতীক পেলেন হাসনাতসহ ৫ প্রার্থী

কুমিল্লায় গণসংযোগকালে কথা বলছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। সম্প্রতি তোলাছবি: প্রথম আলো

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করলেও তা খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ অবস্থায় তিনি ছাড়া ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ পাঁচ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ নিজে সরাসরি এসে প্রতীক বরাদ্দ নেননি। তাঁর পক্ষের লোকজন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তাঁর দলীয় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বরাদ্দের কাগজপত্র গ্রহণ করেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবদুল করিমকে হাতপাখা, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমানকে দেয়ালঘড়ি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার আপেল এবং গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে ট্রাক প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ায় এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (শহিদ) মনোনয়ন জমা দেননি। সাইফুল ইসলাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মোফাজ্জাল হোসেন।১

আসনটির ভোটার ও স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়ায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

দেবীদ্বার পৌরসভার ভূষণা গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দেবীদ্বারে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটা শক্ত অবস্থান আছে। তিনি স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতা এবং চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ তরুণ প্রার্থী। জোটের কারণে জামায়াত এখানে প্রার্থী দেয়নি। সব মিলিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। মঞ্জুরুল আহসান ছিটকে পড়ায় মাঠের পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ সহজে জয়ী হতে যাচ্ছেন বলে অনেকে মনে করছেন।

২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়। কিন্তু সেদিনই হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর আইনজীবী হলফনামায় ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলেন তাঁর বিরুদ্ধে। পরে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আইনজীবী তাঁর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা বাহাসের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান গত সোমবার উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটটি আজ বুধবারের কার্যতালিকায় ১৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। তবে রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।