উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে সুতালড়ী ইউনিয়ন। এর চারপাশ পদ্মা নদীবেষ্টিত। উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। পদ্মার ভাঙনে এ ইউনিয়নের অধিকাংশই নদীতে বিলীন হয়েছে। এ কারণে ইউনিয়নের বেশির ভাগ ভোটার উপজেলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি করে বসবাস করেন।

সরেজমিন ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোট দিতে চরাঞ্চলে আসা এবং যাওয়ার জন্য ট্রলার ভাড়া করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী। পাশাপাশি দুপুরে ভোটারদের খাওয়ানোর জন্য তিন প্রার্থীর উদ্যোগে আলাদা স্থানে খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আন্ধারমানিক ঘাট থেকে ভোটাররা ট্রলারে করে প্রায় এক ঘণ্টা নৌপথ পাড়ি দিয়ে ভোটাররা সুতালড়ী ইউনিয়নের ডোবাইল ঘাটে নামছেন। এরপর এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। কোনো কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার আগে পছন্দের প্রার্থীর রান্না করা খিচুড়ি খাচ্ছেন।

ডোবাইল ঘাট থেকে সুতালড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কেই তিনটি ভোটকেন্দ্র। এ সড়কে প্রথমে ডোবাইল ভোটকেন্দ্রের পাশে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেছেন নৌকার প্রার্থী গোলজার হোসেন। একই সড়কের পাশে মোটরসাইকেল প্রতীকের আবদুল হক মোল্লা ও আনারস প্রতীকের এমদাদুল হক খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ট্রলারের মাঝি (চালক) বলেন, ‘আজ সারা দিন ভোটারদের পারাপারের জন্য ৩০ হাজার টাকায় মোট ৯টি ট্রলার ভাড়া করা হয়েছে। ভাড়ার টাকা তিন প্রার্থীই দেবেন।’

আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলজার হোসেন বলেন, ‘এই এলাকায় কোনো হোটেল বা খাবারের জায়গা নেই। আমাদের লোকজন আসতেছেন অনেক দূর থেকে। তাঁদের খাওয়ার জন্যই খিচুড়ির আয়োজন করা হয়েছে। ভোটারদের নদী পারাপারের সুবিধার্থে ট্রলার ভাড়া করা হয়েছে। অন্য প্রার্থীরাও ট্রলার ভাড়া করেছেন।’

একই কথা বলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, চরে কোনো হোটেল না থাকায় মানবিক দিক থেকেই খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
আরেক প্রার্থী এমদাদুল হক বলেন, তাঁর বাড়ি এই চরেই। নির্বাচনে দায়িত্বরত সবার জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ভোটাররাও খাচ্ছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের। তবে কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আচরণবিধি দেখার জন্য আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট থাকতে পারেন।