অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়ার দেখভাল করা সাতক্ষীরার কলেজছাত্র সোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহানের কাছে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামেছবি: প্রথম আলো

একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়াকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের কলেজছাত্র সোহান। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সোহানের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলামের নির্দেশনায় বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর এ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়া স্থানীয় একটি শ্মশানের পাশে পড়ে আছে। তবে প্রাণীটিকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেননি। ভিডিওটি দেখে ঘটনাস্থলে যান উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী সোহান। তিনি ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। স্থানীয় এক পশুচিকিৎসক ঘোড়াটিকে পরীক্ষা করে জানান, প্রাণীটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার মাধ্যমে ঘোড়াটির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এরপরও ঘোড়াটিকে ফেলে না রেখে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তার দেখভালের দায়িত্ব নেন সোহান।

এ প্রসঙ্গে সোহান বলেন, ‘দুচোখ অন্ধ হলেও এটি একটি প্রাণ। চোখের সামনে একটি প্রাণীকে কষ্টে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারিনি। তাই বাড়িতে নিয়ে এসেছি। যত দিন বেঁচে থাকবে, তত দিন আমরা এর যত্ন নেব।’ সোহানের বাবা নাঈম হোসেন জানান, ছেলের ইচ্ছাতেই ঘোড়াটিকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাঁরা সাধ্যমতো দেখভাল করছেন। অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো মানুষের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

সোহানের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, স্বার্থের হিসাব-নিকাশে ভরা এই সময়ে একটি অসহায় প্রাণীর প্রতি সোহানের এমন সহমর্মিতা মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ।