পূর্ব জুড়ী ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কমলেন্দু ভট্টাচার্য গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান লোক দিয়ে দুটি টিলা কাটিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগতসহ বিভিন্ন কাজে টিলার মাটি ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর তাঁরা প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছেন।

টিলা কেটে মাটি ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম। কাজটি বেআইনি স্বীকার করে তিনি আর এ কাজ করবেন না বলেও জানান। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন, বৃষ্টিতে টিলার মাটি ধসে পড়েছিল। এতে লোকজনের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তাই জনস্বার্থে মাটি সরানোর উদ্যোগ নেন।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব বড় ধামাই গ্রামে পাকা সড়কের এক পাশে একটি বড় টিলার ঢালের অংশে প্রায় চার শতক জায়গা কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। টিলা কাটায় সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কাটা পড়েছে। এসব গাছের গোড়া এদিক-সেদিক ফেলে রাখা। ওই টিলাটির মালিক স্থানীয় সমছু মিয়া বলে জানান আশপাশের লোকজন। এর একটু সামনে গিয়ে দেখা মেলে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার আরেকটি টিলার। এর প্রায় পুরোটা, প্রায় ৩০ শতক জায়গা কাটা হয়ে গেছে। সেখানে কাটা পড়া কয়েকটি গাছের খণ্ড স্তূপ করে রাখা। এটির মালিক স্থানীয় বাসিন্দা মুসলিম মিয়া। এর পাশেই ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলামের বাড়ি।

সমছু মিয়া ও মুসলিম মিয়া প্রবাসে থাকায় তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে জাতীয় স্বার্থে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।