জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাসের গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগ, চালকসহ আহত ২
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী সাভার পরিবহনের একটি বাসের গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্লাসের ভাঙা টুকরার আঘাতে বাসের চালক ও একজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম পলাশ সাহা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসার জন্য চালককে দুই হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকা থেকে আসা সাভার পরিবহনের একটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিল। এ সময় শিক্ষক পলাশ সাহা মোটরসাইকেলে বাসের পেছনে ছিলেন। তিনি বাসের ডান পাশ দিয়ে অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রবেশের জন্য বাসের সামনে দিয়ে বাঁয়ে মোড় নেন। এ সময় হঠাৎ বাসের ডান পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে একটি মিনি পিকআপ ভ্যান ঢুকে গেলে ওই শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। এরপর তিনি উঠে বাসচালকের কাছে যান এবং কেন রাস্তার মাঝখানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে এবং চালকের লাইসেন্স আছে কি না জিজ্ঞাসা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক পলাশ সাহা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসের জানালায় (চালকের ডান পাশের গ্লাস) হেলমেট দিয়ে আঘাত করলে গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় কাচের টুকরা বাসচালক মো. আতিক চৌধুরী ও বাসের এক নারী যাত্রী হাসনা আক্তারের শরীরে লাগে। বাসচালকের শরীরের কয়েক জায়গায় কাচের টুকরা লেগে কেটে যায় এবং ওই নারী যাত্রীর মাথায় আঘাত লাগে। পরে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা উত্তেজিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা এসে ওই শিক্ষককে প্রক্টরিয়াল কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং আহত বাসচালক ও যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ রাসেল বলেন, ওই শিক্ষক বাইক থেকে পড়ে গিয়ে উঠে পিকআপের চালককে কিছু না বলে বাসের দিকে আসেন। বাসের চালকের সঙ্গে ঝামেলা করেন এবং হেলমেট দিয়ে গ্লাসে আঘাত করেন। ওই গ্লাসের কাচের টুকরা যাত্রীদের মুখে লেগে কেটে গেছে।
এ ঘটনায় বাসের চালক আতিক চৌধুরী প্রক্টর কার্যালয়ে একটি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ওই শিক্ষক বারংবার বলা সত্ত্বেও যখন আমি বাস রাখিনি, তখন স্যার তাঁর হেলমেট দিয়ে বাসের গ্লাসে আঘাত করেন। এতে আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই ও সঙ্গে আমার বাসের একজন যাত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আমার মুখে গ্লাস লেগে কেটে যায় এবং আমার যাত্রীর মাথায়, আঙুলে আঘাত লাগে। স্যারও আঘাতপ্রাপ্ত হন, তাঁর মোটরসাইকেলটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে স্যার দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বারবার আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে বিষয়টি আমি ক্ষমা করে দিই।’
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আইবিএর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসের চালক রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলছিলেন। ফলে বাঁ পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে অন্য গাড়ি ঢুকে যায়। আমি হার্ডব্রেক করে নিজেও পড়ে যাই। ওই চালককে আমি বোঝাতে গিয়েছিলাম, কেন তিনি রাস্তার মাঝখানে বাস রেখেছেন। তবে তিনি কিছুতেই গাড়ি সাইড করবেন না। হিট অব দ্য মোমেন্ট আমি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়ে ফেলেছি। তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং চিকিৎসার জন্য ক্ষতিপূরণও দিয়েছি। আরেকজন যাত্রী যিনি আহত হয়েছেন, তাঁর কাছে আমার কার্ড দিয়েছি। তাঁর কোনো সহযোগিতা দরকার হলেও আমি করব বলে জানিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘উভয় পক্ষই আমাদের কার্যালয়ে এসেছিলেন। বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে। শিক্ষক ড্রাইভারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং চিকিৎসা বাবদ দুই হাজার টাকা ও আহত যাত্রীর চিকিৎসার খরচ বহনের কথা বলেছেন।’