মনিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আমির হোসেন এবার ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করছেন। তিনি বলেন, ‘সবে জমিতে চাষ দেওয়া শুরু করেছি। আট কেজি ইউরিয়া সার কিনেছি। ২৫ টাকা কেজি দরে দিতে হয়েছে। বেশি দাম নেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছিলাম দোকানদারের কাছে। তিনি বলেছেন, সরকার ইউরিয়া সারের দাম অনেক বাড়িয়েছে। এ জন্য দাম বেশি পড়ছে।’

কৃষি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম। আমন ধানের চারা রোপণের সময়কাল মধ্য জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চারা রোপণের পর জুলাই ও আগস্ট মাসে ইউরিয়ার ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি। এরপর ইউরিয়ার চাহিদা কমতে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী, বিসিআইসি ডিলাররা সরকারি বাফার গুদাম থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া কিনে উপজেলার নির্ধারিত ইউনিয়নে তাঁদের নিজস্ব গুদামে নিয়ে রাখবেন। এরপর তাঁরা সরাসরি ও সরকার নির্ধারিত খুচরা সার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার কৃষকদের কাছে ওই সার বিক্রি করবেন। বিসিআইসি ও নির্ধারিত খুচরা সার ব্যবসায়ীরা ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী সার বিক্রি করতে পারবেন না।

জেলা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি সরকার নির্ধারিত কৃষক পর্যায়ে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যের মধ্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রয় নিশ্চিত করবে। সরকারি দামে সার বিক্রয়ের বিষয়টি তদারকি করবে। কোনো ডিলার যদি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার ক্রয়-বিক্রয় করেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর নিবন্ধন বাতিলসহ তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার বিসিআইসির (বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা) ডিলার রয়েছেন ১৪২ জন। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত খুচরা সার ব্যবসায়ী রয়েছেন ৬৫৭ জন। গতকাল পর্যন্ত জেলার ডিলার ও খুচরা সার ব্যবসায়ীদের কাছে ৯৮৯ দশমিক মেট্রিক ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। ওই সার দাম বাড়ানোর আগেই উত্তোলন করা। কৃষক পর্যায়ে ওই ইউরিয়া সারের সরকার নির্ধারিত খুচরামূল্য ৮০০ টাকা; অর্থাৎ প্রতি কেজি ১৬ টাকা। ওই সার আগের দামে বিক্রি করতে হবে। বিক্রি করার সময় ডিলার ও খুচরা সার ব্যবসায়ীদের অবশ্যই কৃষকদের ক্যাশ মেমো দিতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, আগের ইউরিয়া সার আগের নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে। পুনর্নির্ধারিত দামে বিক্রি ওই সার বিক্রি করা যাবে না। এই সার বিক্রি শেষ হওয়ার পর নতুন বরাদ্দের সার উত্তোলন করতে হবে।

ইউরিয়া সার বিক্রি করার সময় ডিলার ও খুচরা সার ব্যবসায়ীদের কৃষককে ক্যাশ মেমো ও মুঠোফোন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রির বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন