কুষ্টিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে নুর জাহান বেগম নামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ এক নারীকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি মামলার বাদী হওয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে পুলিশের একটি দল তাঁকে নিয়ে যায় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনি কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, কিছুই জানেন না স্বজনেরা। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে পরিবার।
নুর জাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে সামাজিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁদের বাড়িতে ও গুদামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে এলাকার একদল লোক। পরে কৃষক দলের স্থানীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে এলাকার আরও কয়েকজনের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কিছু লোক জড়িত। তাঁর মা নুর জাহান বেগম এ ঘটনায় বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করতে দিয়েছেন আদালত।
সেলিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলা করার পর থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ সকালে মা বাড়িতে কাজ করছিলেন। সাড়ে ৭টার দিকে দুটি গাড়িতে করে পুলিশের একটি দল আসে। বাড়ির ভেতর তিনজন নারী পুলিশ সদস্যসহ পুরুষ পুলিশ প্রবেশ করেন। তাঁরা মাকে বলেন, “আপনি মামলার বাদী, ওসি স্যার কথা বলবেন, গাড়িতে ওঠেন।”এরপর তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এখন কোথায় তাঁকে রাখা হয়েছে, আমি জানি না। বাড়িতে ১৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী একটি মেয়ে আছে আমার। তাকে রেখে মাকে কোথাও খুঁজতেও পারছি না।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিজের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছয় দিন আগে আদালতে একটি মামলা করেন নুর জাহান বেগম। ওই মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও কৃষক দলের ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মামলাটি তুলে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন বলে নুর জাহানের পরিবারের অভিযোগ।
নুর জাহানের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি, বাইরে আছি। একটি মার্ডার মামলা নিয়ে অভিযানে আছি। থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারব।’
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’