ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ কম, কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে নির্ধারিত সময়ে রাজধানী থেকে গাড়ি ছেড়ে না আসায় কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
আজ বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, কাঁচপুর ও সোনারগা অংশ সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সড়কে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক ও দ্রুতগতির। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কোনো যানজট দেখা যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য, ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় অনেক যাত্রী আগেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সড়ক ভালো, পুলিশি তৎপরতা আছে। এ কারণে মহাসড়কে গাড়ির চাপ কম।
মেঘনা টোল প্লাজায় ১২টি বুথে গাড়ি থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। চালকদের নির্দিষ্ট লেনে চলাচলে উৎসাহিত করতে মাইকিং করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকাও যানজট কম থাকার একটি বড় কারণ।
মেঘনা টোল প্লাজার কর্মকর্তা আলীফ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, এবারের ঈদে গাড়ির চাপ কম। এ ছাড়া মালবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কে চাপ কম। এ কারণে টোল প্লাজা দিয়ে যানজট ছাড়াই গাড়ি চলাচল করতে পারছে।
টোল প্লাজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মনির হোসেন বেলা সোয়া ১১টার দিকে বলেন, সকালে গাড়ির চাপ থাকলেও মহাসড়ক এখন ফাঁকা। মহাসড়কে যানজট নেই।
বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী থেকে বের হয়ে আসতে তাঁদের যানজটে পড়তে হয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অংশে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত যানজট নেই। মহাসড়ক ফাঁকা, দ্রুত গতিতে গাড়ি চলছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা প্রথম আলোকে বলেন, ঈদে লম্বা ছুটি হওয়ায় যাত্রীরা অনেকে আগেই চলে গেছেন। আর যাঁরা আছেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে বাড়ি যাচ্ছেন। যানজট না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়কের অবস্থা ভালো এবং হাইওয়েতে পুলিশি তৎপরতা থাকায় যানজট নেই। তবে গার্মেন্টস ছুটি শুরু হলে চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বড় রকমের যানজট লাগার আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।
কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় পরিবহন কাউন্টারগুলোতে গাড়ির জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি না আসায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেকে।
ফোম কারখানায় কাজ করেন রুবেল মিয়া। ঈদের ছুটিতে নোয়াখালীর চৌমুহনী যাওয়ার উদ্দেশে গাড়ি জন্য সাইনবোর্ডে স্ত্রীসহ অপেক্ষা করছিলেন তিনি। রুবেল মিয়া বলেন, সকাল সাড়ে আটটায় তাঁর গাড়ি ছাড়ার কথা ছিল। দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও গাড়ি আসেনি। ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা করে নিয়েছে। অন্য সময় ৫০০ টাকা নেয় বলে জানান তিনি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সালাউদ্দিন ঈদের ছুটিতে বোন, দুই ভাগনি এবং আরও দুই স্বজনসহ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী যাচ্ছেন। নীলাচল পরিবহনের টিকিট কেটেছেন তাঁরা। তবে গাড়ি তখনো এসে পৌঁছায়নি।
সাইনবোর্ডে হিমাচল পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আবদুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে আসতে দেরি হচ্ছে। সকাল থেকে তাদের ৬ থেকে ৭টি গাড়ি কাউন্টার থেকে ছেড়ে গেছে। জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে গাড়িগুলোর দেরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ কারণে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।